📌 বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের চাপ বাড়ছে মূল্যস্ফীতির কারণে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ৮.৩৪% হলেও মজুরি বৃদ্ধির হার শুধু ৭.৯০%। পাঁচ বছরে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে ৫২% হলেও বেতন বৃদ্ধি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আয়ের চেয়ে ব্যয়ের চাপ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির দমন করে যাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রার মান। রাজধানীর কাজীপাড়ায় বাস করা ওয়াসিউর রহমান একজন ম্যানেজার হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাঁর দায়িত্বে ২০ জন কর্মী রয়েছে। প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন খাতের গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক, মাঠপর্যায়ের কাজের তদারকি এবং পোশাক, যাতায়াত ও যোগাযোগের খরচের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। কিন্তু বেতনের তুলনায় ব্যয়ের হার বেশি হওয়ায় মাস শেষে টান পড়ে তাঁর পকেটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮.৩৪% মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার শুধু ৭.৯০% — আয়ের চেয়ে ব্যয়ের চাপ বাড়ছে
- 📌 পাঁচ বছরে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে ৫২% — কিন্তু বেতন বৃদ্ধি খুব ধীরগতিতে
- 📌 বেসরকারি খাতে কোনো কেন্দ্রীয় বেতনকাঠামো না থাকায় প্রতিষ্ঠানভেদে বেতনের তফাত বিশাল
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪% — নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি থমকে গেছে
- 📌 মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের জন্য যাতায়াত, খাওয়ার খরচ ও পোশাকের ব্যয় বেতনের একটি বড় অংশ খেয়ে নেয়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল শুধু ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এই বৈষম্য বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
উত্তরায় একটি বায়িং হাউসে জুনিয়র কর্মী হিসেবে কাজ করা সোহেল রানা বলেছেন, প্রতিদিন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন গার্মেন্টসে ঘুরতে হয় তাঁকে। তিনি জানান, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এলাকা থেকে এলাকা যাতায়াত এবং বাইরে খাওয়ার পেছনে বেতনের একটি বড় অংশ চলে যায়। প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া যাতায়াতের ভাতা প্রকৃত খরচের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বাড়তি টাকা পকেট থেকেই দিতে হয়।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২২ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ধারাবাহিক এই হারগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে সাধারণ জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে আনুমানিক ৫২ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি থমকে গেছে।
"বাইরে ছোটাছুটি না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু বেতনের তুলনায় খরচের হার বেশি হওয়ায় প্রতিদিন টানাপোড়েনে থাকতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কাজীপাড়া, উত্তরায় বায়িং হাউস)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াসিউর রহমান (ম্যানেজার), সোহেল রানা (জুনিয়র কর্মী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮.৩৪%, ৭.৯০%, ৫২%, ৩.৪%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!