📌 বাংলাদেশে প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার গ্রহণে গ্রাহকদের অসন্তোষের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। রংপুরের একটি বাসিন্দা মিটার লক হওয়ার কারণে রাতে বিদ্যুতহীন অবস্থায় পড়েন। আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ দাবি করেন, প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত খরচের কারণে গ্রাহকদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে
বাংলাদেশে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার গ্রহণের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। রংপুরের বাসিন্দা গাউসুল আজম কায়েসের মতো অনেকের অভিজ্ঞতা হলো রাতের অন্ধকারে মিটার লক হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ অফিসে যেতে বাধ্য হওয়া। তিনি বলেছেন, “রাত সাড়ে এগারোটায় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমি রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল ডিজিট দিয়েছিলাম। মিটার লক হয়ে গেলে এখন অফিসে যেতে হবে লক খোলার জন্য। এটা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয়, রাতে অন্ধকারেই থাকতে হবে!”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের বাসিন্দা গাউসুল আজম কায়েস রাতের অন্ধকারে মিটার লক হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ অফিসে যেতে বাধ্য হন
- 📌 প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে বিড়ম্বনা ও মিটার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে
- 📌 আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ দাবি করেন, প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত খরচের কারণে গ্রাহকদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 ৫০০ টাকা রিচার্জ করলেও মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাটের নামে ১৫০-১৬০ টাকা অতিরিক্ত কাটা হয়
- 📌 সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে না, বলে দাবি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার গ্রহণের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণ হিসেবে গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচের দাবি উঠেছে। রংপুরের বাসিন্দা গাউসুল আজম কায়েসের মতো অনেকের অভিজ্ঞতা হলো রাতের অন্ধকারে মিটার লক হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ অফিসে যেতে বাধ্য হওয়া। তিনি বলেছেন, “রাত সাড়ে এগারোটায় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমি রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল ডিজিট দিয়েছিলাম। মিটার লক হয়ে গেলে এখন অফিসে যেতে হবে লক খোলার জন্য। এটা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয়, রাতে অন্ধকারেই থাকতে হবে!”
বাংলাদেশে প্রি-পেইড মিটার সংযোগের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে গেলে সেটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে, আবার স্থাপিত মিটারগুলো অপসারণের দাবিতে মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশও হয়ে যাচ্ছে। এই দাবিতে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং রংপুরে এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রমকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাটির শুনানি আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ, যিনি এই জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব, দাবি করেন, সরকার পোস্ট পেইড এবং প্রি-পেইড উভয় ব্যবস্থাতেই সমান খরচের কথা বললেও আদতে সেটি সঠিক নয়। তিনি বলেন, “আগে যারা পোস্ট পেইড মিটার ব্যবহার করতো তাদের মাসে যদি এক হাজার বা বারোশো টাকা বিল আসতো, এখন যারা প্রি-পেইড পদ্ধতিতে সেটা তিন হাজার সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো।”
গ্রাহকদের অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত খরচের দাবি। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন, “এখন প্রি-পেইডে পাঁচশো টাকা রিচার্জ করলে প্রতি মাসে মিটার ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা, বাসা-বাড়ির দুই কিলোওয়াটের মিটারের ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা করে ৮৪ টাকা এবং প্রতিবার ভ্যাট বাবদ শতকরা পাঁচ টাকা কেটে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, একজন গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের একবার ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে এসব খরচ বাবদ ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। এই খরচই মূলত দেশব্যাপী গ্রাহকদের আপত্তির প্রধান কারণ।”
"তাহলে এই যে অতিরিক্ত টাকা, এই অতিরিক্ত টাকাটা গেল কোথায়? কারণ একটা বিদ্যুৎ যখন মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তখন কিন্তু এই যে প্রোডাকশন যে কস্ট সেই কস্ট যুক্ত করেই কিন্তু বিদ্যুতের মূল্যটা নির্ধারণ করা হয়। তাহলে প্রতি ইউনিটে গ্রাহককে আলাদা করে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এসব কেন দিতে হবে?"
২০২৫ সালের চৌঠা জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি অফিস আদেশের কথা উল্লেখ করে আইনজীবী মি. নাগ জানান, যাদের মিটার নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা যারা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, সরকারের সংস্থাগুলো এই নির্দেশনা প্রতিপালন করছে না। তিনি বলেন, “দেখা গেছে, তারা এই শহরের যে বাসা-বাড়ি বা বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সেখানে সচল পোস্টপেইড মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। কিন্তু সরকার এই মিটারটিকে বন্ধ করেনি, বাতিল করেনি। তাহলে একটা সচল মিটার তারা খুলছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাউসুল আজম কায়েস, আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মিনিট (পড়ার সময়), ২৭ (শে সেপ্টেম্বর), ৪০ টাকা (মিটার ভাড়া), ৪২ টাকা (ডিমান্ড চার্জ), ৮৪ টাকা (মোট ডিমান্ড চার্জ), ৫০০ টাকা (রিচার্জ), ১৫০-১৬০ টাকা (অতিরিক্ত খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!