📌 প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিক্ষা খাতের সংস্কারের দাবি তুলেছেন
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দারিদ্র্যের চাপে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর চাপ বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ** দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে — বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী
- 📌 **মূল্যস্ফীতির কারণে** সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক মানুষ
- 📌 **বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থা** কর্মসংস্থান সংকটকে আরও তীব্র করেছে
- 📌 **জ্বালানি সংকট** মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু আগের সরকার পদক্ষেপ নেয়নি
- 📌 **ব্যাংক সংস্কারের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলার** প্রয়োজন — তিতুমীরের দাবি
- 📌 **শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ** বরাদ্দ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা
- 📌 **উপজেলা হাসপাতালে ১৫১ শয্যা** নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া উপস্থিত থাকা সভায় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।
তিতুমীর আরও জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ নিতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের জিডিপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিতুমীর স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অতীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
গণসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিতুমীর আরও বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
"আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (অর্থ উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি (দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে), ৪০ বিলিয়ন ডলার (ব্যাংক সংস্কারের খরচ), ২ শতাংশ (শিক্ষা খাতে জিডিপি বরাদ্দ), ১৫১ শয্যা (নতুন উপজেলা হাসপাতাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!