📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নীতিগত পরিবর্তন ও জনগণের সঙ্গে একাত্মতা নিয়ে কাজ করবে। তিনি বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতিগুলো এবং হাজার হাজার কোটি টাকার পাচারের কথা উল্লেখ করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি বলেছেন, উৎপাদন ও বিনিয়োগের স্থবিরতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুঁজিবাজারে ধসের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান** বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট অস্বীকার করা হবে না, কিন্তু একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হবে না — রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতি নিয়ে সংকট মোকাবিলা করা হবে।
- 📌 **২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট** (প্রস্তাবিত ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা)কে **"অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপকল্প"** হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পের মান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- 📌 **উন্নয়ন ব্যয়** ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে **৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা** করা হয়েছে, যা উৎপাদন ও বিনিয়োগকে সচল রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **৩ ধাপে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কৌশল**: ১) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ২) রাজস্ব সংস্কার ও ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, ৩) উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবনমূলক অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
- 📌 **১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন** থেকে সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে **"সবার আগে বাংলাদেশ"** এবং **"গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা"** নিশ্চিত হবে।
- 📌 **তরুণদের কর্মসংস্থান** ও **"প্রকৃত উন্নয়ন"** হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও উৎপাদন-বিনিয়োগমূলক অর্থনীতির বিকাশের কথা জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতিগুলো এবং হাজার হাজার কোটি টাকার পাচারের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্তব্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকারের **"ভ্যানিটি প্রজেক্ট"** বা অহেতুক প্রকল্পের কারণে দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা এখন জাতির ওপর চেপে বসেছে।
বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করবে না, কিন্তু একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে না। তিনি বলেছেন, **"রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে"** জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও বলেছেন, **"আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকটের কারণে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে"**। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকট মাথায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, **"গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালনে সরকার বদ্ধপরিকর"**। তিনি **"সবার আগে বাংলাদেশ"** এবং **"গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা"** শিরোনামে উপস্থাপিত বাজেটকে **"অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপকল্প"** হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
"শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও তরুণদের কর্মসংস্থানই প্রকৃত উন্নয়ন। ঋণনির্ভর নয়, বরং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: - বাজেট: ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা - উন্নয়ন ব্যয়: ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা (৫০% বেশি বৃদ্ধি) - আলোচনার তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬ - নির্বাচনের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!