📌 পশুখাদ্যের দাম এক মাসে দুই দফায় বেড়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার হার বৃদ্ধির কারণে প্রতি কেজি ফিডের দাম বেড়েছে ৭২ টাকা ৫০ পয়সায়। ছোট খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, ফলে ডিম ও মুরগির দামও বাজারে বেড়েছে। খামারিরা দাবি করছেন, উৎপাদন খরচ কমাতে সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে
পশুখাদ্যের দামের দ্রুত বৃদ্ধি ছোট খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং ভোক্তাদের বাজারে দামের চাপ অনুভব করাচ্ছে। এক মাসেরও কম সময়ে দুই দফায় বেড়েছে পোলট্রি ও পশুখাদ্যের মূল্য। আগস্টের শুরুতে প্রতি কেজি পশুখাদ্য ৬৮ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে — যা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে উৎপাদনকারীদের দাবি, কাঁচামালের দামের বৃদ্ধির তুলনায় ফিডের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি, ফলে প্রতি কেজি ফিডে এখনো ৩ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে তাদের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ**: প্রতি কেজি ফিডের দাম বেড়েছে ৬৮ টাকা থেকে ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় — দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে।
- 📌 **কাঁচামালের দামের প্রভাব**: ভুট্টার দাম ২৪ শতাংশ, ডিওআরবি ২৭ শতাংশ এবং সয়াবিন মিলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার হার বৃদ্ধির কারণে আমদানি করা কাঁচামালের খরচও বেড়েছে।
- 📌 **ছোট খামারিরা উৎপাদন কমাচ্ছেন**: গাজীপুরের মাওনার কুতবাড়ি গ্রামের খামারি আমির হোসেন বলেন, আগে মাসে ৩০ বস্তা ফিড কিনতেন, এখন কমিয়ে ২৮ বস্তায় এনেছেন। এক বস্তা ফিডের দাম এখন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা।
- 📌 **বাজারে প্রভাব পড়ছে**: ঢাকার বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে — আগের তুলনায় দাম বেড়েছে।
- 📌 **খামারিরা দাবি করছেন**: স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আমদানি করা কাঁচামালের কর-শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, আগস্টে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল ৪৩০ ডলার, এখন তা বেড়ে ৫৩০ ডলারে উঠেছে। ছোট ফিড মিলগুলোর অনুরোধে আগস্টের শেষ দিকে প্রতি কেজি ফিডের দাম ২ টাকা এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আরও ২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনো প্রতি কেজি ফিডে ৩ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আকিজ ফিড মিলসের চিফ বিজনেস অফিসার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি কেজি ভুট্টা ২৮ থেকে ২৯ টাকায় পাওয়া যেত, কিন্তু জুন থেকে আগস্টে তা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদনের মোট খরচের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাঁচামালের পেছনে ব্যয় হয়।
পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বাজারে প্রভাব পড়ছে। শনিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগস্টের আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতো।
বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, পশুখাদ্যসহ উৎপাদন উপকরণের ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দামে পোলট্রি পণ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি।
"কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে ফিড মিলগুলো লোকসানে পড়েছে। ছোট খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, ফলে বাজার ও ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, গাজীপুরের মাওনার কুতবাড়ি গ্রাম, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোশাররফ হোসেন চৌধুরী (বিপিআইএ সভাপতি), আমির হোসেন (খামারি), এটিএম হাবিবুর রহমান (আকিজ ফিড মিলসের চিফ বিজনেস অফিসার), সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৮ টাকা → ৭২ টাকা ৫০ পয়সা (ফিডের দাম), ৭ শতাংশ (ফিডের দাম বৃদ্ধি), ৩ টাকা (লোকসান), ২৪ শতাংশ (ভুট্টার দাম বৃদ্ধি), ২৭ শতাংশ (ডিওআরবি দাম বৃদ্ধি), ২০ শতাংশ (সয়াবিন দাম বৃদ্ধি), ৪৩০ ডলার → ৫৩০ ডলার (সয়াবিনের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!