📌 পঞ্চগড়ের লাউচাষিরা ভীষণ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। বাজারে দাম না পেয়ে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয় মূল্য মাত্র ১০%। কৃষকরা উৎপাদন বন্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন
পঞ্চগড় জেলার লাউচাষিরা বর্তমানে অপরিসীম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে। বাজারে দামের অবিশ্বাস্য পতনের কারণে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দরপতন কৃষকদের উৎপাদন খরচ মিটাতে অক্ষম করে তুলেছে এবং অনেকেই উৎপাদন বন্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে — দামের পতন কৃষকদের উৎপাদন খরচ মিটাতে অক্ষম করে তুলেছে
- 📌 লাউচাষি আবদুল কাদের ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে ১২০ টাকা বিক্রি করতে সক্ষম হন, কিন্তু মাত্র ২০ টাকা লাভে বাকি টাকা হারান
- 📌 প্রতি বিঘা জমিতে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচে উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩-৫ হাজার টাকায় — আগের বছরের তুলনায় ৮০% কম
- 📌 ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাউ পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু দামের পতনের কারণে ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন
- 📌 কৃষক দুলাল জানান, প্রতি বিঘা থেকে ৩-৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হলেও বাজারে দাম নেই — এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তোরেয়া এলাকার লাউচাষি আবদুল কাদের গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদককে জানান, তিনি ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে লাউ বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিক্রি করতে সক্ষম হন মাত্র ১২০ টাকা। এর মধ্যে ১০০ টাকা খরচ হলে মাত্র ২০ টাকা লাভে বাকি টাকা হারান। তিনি বলেন, ‘এমনটা জানলে লাউ বাজারে আনতাম না।’
এই সংকটের শিকার নন শুধু কাদেরই — পঞ্চগড়ের সকল লাউচাষিরই একই অবস্থা। বাজারে দাম না পেয়ে অনেকেই লাউ খেত থেকে তুলছেন না। আটোয়ারী উপজেলার লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত হোসেন জানান, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাউ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে এবার দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। লাউ সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মিটিয়ে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সারা দেশ থেকে লাউ আসছে ঢাকায়, যার ফলে দাম পড়ে গেছে।
খবর জানা যায়, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলায় লাউয়ের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। অথচ আগের কয়েক বছর একই জমির লাউ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন কৃষকেরা।
মির্জাপুর ইউনিয়নের লাউচাষি দুলাল জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে এ সবজির দাম না থাকায় উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও উঠছে না। লাউচাষি আবাস আলী বলেন, ‘পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে কৃষক কীভাবে সংসার চালাব?’ তিনি কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
"এমনটা জানলে লাউ বাজারে আনতাম না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আটোয়ারী উপজেলা, পঞ্চগড় জেলা, মির্জাপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল কাদের, সাজ্জাত হোসেন, দুলাল, আবাস আলী, মোস্তাক আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি লাউ (১ টাকায়), ১০০ টাকা (অটোরিকশা ভাড়া), ১২০ টাকা (বিক্রয়), ২০ টাকা (লাভ), ২০-৩০ হাজার টাকা (উৎপাদন খরচ), ৩-৫ হাজার টাকা (বিক্রয় মূল্য), ৪০-৫০ হাজার টাকা (আগের বছরের বিক্রয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!