📌 পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাওজা জানান, ৯.৫ কোটি মানুষ পেল পেট্রোলের ১০০ রুপি ডিসকাউন্টের সুবিধা। তবে অর্থনৈতিক সংকটে অনেকেরই সুবিধা পৌঁছায়নি। ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোল দামে ৫০% বৃদ্ধি পেলেও সরকারি সুবিধা সীমিত বলে অভিযোগ উঠছে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাওজা জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোল দামে ৫০% বৃদ্ধি পেলেও সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেল ৯.৫ কোটি মানুষ। তবে অর্থনৈতিক সংকটে অনেকেরই সুবিধা পৌঁছায়নি। আল জাজীরা থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তানের ৯.৫ কোটি মানুষ পেল পেট্রোলের ১০০ রুপি ডিসকাউন্টের সুবিধা, যা ইরান যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের অংশ
- 📌 সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেল মোটরসাইকেল, রিকশা ও ৮০০সিসি পর্যন্ত গাড়ির মালিকরা, তবে দামের ৫০% বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এই সুবিধা অনেকের জন্য যথেষ্ট নয়
- 📌 সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেতে মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রদেশের তথ্য পাঠাতে হয় ৯৭৭১ নম্বরে
- 📌 দু-তিন চাকার যানবাহনের মালিকরা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ রুপি, ৮০০সিসি পর্যন্ত গাড়ির মালিকরা প্রতি দশ দিনে ১০০০ রুপি পেলেন
- 📌 সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেতে গাড়ির নাম মালিকের নামে থাকতে হয় না, তবে রেজিস্ট্রেশন তারিখ সঠিক হতে হবে
- 📌 সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেলেও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পেট্রোলের খরচ অনেকের জন্য যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে যারা দৈনিক ১০০০-১৫০০ রুপি পেট্রোল খরচ করেন
- 📌 সরকারি পেট্রোল সুবিধা চালু করার জন্য সরকার ৭৫ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করেছে, যা প্রতি মাসে ৩৫-৪০ বিলিয়ন রুপি খরচ করছে
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাওজা জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোল দামে ৫০% বৃদ্ধি পেলেও সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেল ৯.৫ কোটি মানুষ। এই সুবিধা চালু করা হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য। সরকারি তথ্যমতে, এই সুবিধা পেল মোটরসাইকেল, রিকশা ও ৮০০সিসি পর্যন্ত গাড়ির মালিকরা।
সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেতে মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রদেশের তথ্য পাঠাতে হয় ৯৭৭১ নম্বরে। এই তথ্য পাঠানোর পর, প্রতিটি পাম্পে যাওয়ার আগে একটি টোকেন পাঠানো হয়, যা দেশের যে কোনো পাম্পে ব্যবহার করা যায়।
দু-তিন চাকার যানবাহনের মালিকরা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ রুপি (১.৮০ ডলার) পেলেন, যা মাসে চারটি টোকেনে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, ৮০০সিসি পর্যন্ত গাড়ির মালিকরা প্রতি দশ দিনে ১০০০ রুপি (৩.৬০ ডলার) পেলেন, যা মাসে তিনটি টোকেনে সীমাবদ্ধ।
সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেতে গাড়ির নাম মালিকের নামে থাকতে হয় না। শাজা ফাতিমা খাওজা বলেন, “আমার নিজের বাড়িতেও একটি মোটরসাইকেল আমাদের নামেই রেজিস্ট্রেশন করা আছে, যা আমার রান্নাঘর ব্যবহার করে। এই কারণে দু-তিন চাকার যানবাহনের মালিকদের নামের প্রয়োজন নেই।”
২০২৬ সালের এপ্রিলে চালু করা একটি পূর্ববর্তী ক্যাশ ট্রান্সফার স্কিমে মাত্র এক মিলিয়ন মোটরসাইকেল মালিকের পৌঁছেছিল, কারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন ছিল, যা বেশিরভাগ রাইডারদের ছিল না।
সরকারি পেট্রোল সুবিধা পেলেও অর্থনৈতিক সংকটে অনেকের জন্য এই সুবিধা যথেষ্ট নয়। শাকিল আহমেদ, ৪৫ বছর বয়সী একটি ইলেকট্রিশিয়ান, বলেন, “এই সুবিধা কিছুটা উপকারি, কিন্তু যারা দৈনিক ১০০০ থেকে ১৫০০ রুপি পেট্রোল খরচ করেন, তাদের জন্য এই সুবিধা যথেষ্ট নয়।”
অর্থনীতিবিদ সাফিয়া আফতাব বলেন, এই সুবিধা নিম্ন আয়ের মানুষদের পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “এই স্কিম নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য, যারা সাধারণত দু-তিন চাকার যানবাহন এবং ৮০০সিসি গাড়ি ব্যবহার করেন। সুতরাং, এটি একটি ভাল পদক্ষেপ যে সরকার দরিদ্রদের জন্য পেট্রোল সুবিধা দিচ্ছে।”
তবে সাফিয়া আফতাব আরও বলেন, সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের ১১৪ রুপি কর আরোপ করেছে, যা সরকারের জন্য মাসে ১০০ বিলিয়ন রুপি (৩৬১ মিলিয়ন ডলার) আয় করে। তিনি বলেন, “এই কর মূলত পরিবেশগত কর হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এখন এটি সরকারের জন্য একটি মূল আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
সরকারি পেট্রোল সুবিধা চালু করার জন্য সরকার ৭৫ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করেছে, যা প্রতি মাসে ৩৫-৪০ বিলিয়ন রুপি খরচ করছে। পেট্রোল মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক বলেন, এই খরচ প্রতি মাসে ২৫-৩০ বিলিয়ন রুপি থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ বিলিয়ন রুপি হয়েছে।
"এই সুবিধা কিছুটা উপকারি, কিন্তু যারা দৈনিক ১০০০ থেকে ১৫০০ রুপি পেট্রোল খরচ করেন, তাদের জন্য এই সুবিধা যথেষ্ট নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফেডারেল মন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাওজা, অর্থনীতিবিদ সাফিয়া আফতাব, ইলেকট্রিশিয়ান শাকিল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯.৫ কোটি (সুবিধা পাওয়ার সংখ্যা), ১০০ রুপি (ডিসকাউন্ট), ৫০০ রুপি (দু-তিন চাকার যানবাহনের সপ্তাহে সুবিধা), ১০০০ রুপি (৮০০সিসি গাড়ির প্রতি দশ দিনে সুবিধা), ৭৫ বিলিয়ন রুপি (সুবিধা বরাদ্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!