📌 মৌসুমের সময়েও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের আহরণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। জেলেদের আয় কমে যাওয়ায় পেশা বদল করার চিন্তা জাগছে, আর বাজারে ইলিশের দাম ৩০০% পর্যন্ত বেড়েছে। নদীর দূষণ, অবৈধ জাল এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মৌসুমের সময়েও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের আহরণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মানিকগঞ্জের জেলেরা দিন-রাত মাছ ধরার পরেও প্রত্যাশিত ইলিশ পাচ্ছেন না। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা জাল ফেলেও দু-একটি মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় জেলেদের আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানোর চাপ বাড়ছে এবং অনেকের মাছ ধরার পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করার চিন্তা জাগছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০-১২ ঘণ্টা জাল ফেলেও মৌসুমের সময়ে জেলেরা পাচ্ছেন দু-একটি ইলিশ মাত্র
- 📌 গত বছরের তুলনায় ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা থেকে বেড়েছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়
- 📌 ৪ বছরের মধ্যে পদ্মায় ইলিশ আহরণ কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ — ২০২০-২১ সালে ১ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন থেকে ২০২৪-২৫ সালে ৬২২ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে
- 📌 নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমে চর সৃষ্টি এবং অবৈধ জালের কারণে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 জেলা মৎস্য অধিদপ্তর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৬২টি অভিযানে ৩ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করেছে
📰 বিস্তারিত
শিবালয়ের আরিচা ঘাটের মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরার নৌকাগুলো ফিরছে খালি হাতে। কোনো নৌকায় দু-একটি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ নৌকায় ইলিশের অদৃশ্য। এই অবস্থায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বানিয়াজুরীর স্কুলশিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের জন্য অপারগ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে এমন অবস্থা খুব একটা দেখিনি।’
যমুনাপাড়ের বাচামারা এলাকার জেলে অহেদ আলী জানান, ‘আমরা ছয়জন মিলে দিন-রাত মাছ ধরি। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নদীতে থাকার পরও ইলিশ পাই দুই থেকে তিন হাজার টাকার। কিন্তু নৌকা ও জ্বালানির খরচের কারণে আয় কমে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশের সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে হয়।’
হরিরামপুরের বাহিরচর গ্রামের জেলে ফারুক ব্যাপারী বলেন, ‘মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষিকাজ করতে হচ্ছে। নদী আগের মতো গভীর নেই, মাছও তেমন আসে না। এভাবে চলতে থাকলে মাছ ধরার পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করতে হবে।’
শিবালয়ের অন্বয়পুরের যমুনাপাড়ের জেলে মামুন মৃধা জানান, ‘মাছ কমে যাওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মাছ ধরার পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করতে হবে। ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে আড়তদারদের ওপরও। আরিচা ঘাটের আড়তদার হাজি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইলিশ গভীর পানির মাছ। পদ্মা-যমুনায় নাব্যতা কমে যাওয়ায় ইলিশের বিচরণও কমছে। সরবরাহ না থাকায় অনেক আড়তদার সমস্যায় পড়েছেন।’
"নদীর নাব্য কমে যাওয়া, পলি জমে চর ও ডুবোচর সৃষ্টি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ কারেন্ট জালে মাছ ধরার কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।"
বেসরকারি কৃষি ও মৎস্য গবেষণা সংস্থা বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, ‘নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমে চর ও ডুবোচর সৃষ্টি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ কারেন্ট জালে মাছ ধরার কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে। কিন্তু নাব্য সংকট, ডুবোচর, অপরিকল্পিত ড্রেজিং, দূষণ, খাদ্যসংকট ও অবৈধ জালে মাছ ধরার কারণে ইলিশ কমে যাচ্ছে। তবে এখনো মৌসুমের সময় আছে, ইলিশ নদীতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পদ্মা-যমুনা নদী, মানিকগঞ্জ জেলা, আরিচা ঘাট, জাফরগঞ্জ, হরিরামপুর, বাহিরচর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল আমিন, অহেদ আলী, ফারুক ব্যাপারী, মামুন মৃধা, হাজি মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিমল রায়, শেখ মনিরুল ইসলাম মনির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১২ ঘণ্টা, ২-৩ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০-৩ হাজার টাকা, ৩ হাজার ৮০০-৪ হাজার টাকা, ১ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন (২০২০-২১), ৬২২ মেট্রিক টন (২০২৪-২৫), ২৬২টি অভিযান, ৩ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!