📌 খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ও ভর্তুকি বরাদ্দ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি এই পদক্ষেপের ফলে নগর দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা বিপদে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রয়) কর্মসূচিতে চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ও ভর্তুকি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে নগর দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা বিপদে পড়তে পারে বলে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি সতর্ক করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ওএমএসের চাল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪০ হাজার টন থেকে কমিয়ে ২ লাখ টন করা হয়েছে (গত অর্থবছরে ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টন)
- 📌 আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫০ হাজার টন থেকে কমিয়ে ৩ লাখ টন করা হয়েছে (গত অর্থবছরে ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার টন)
- 📌 ওএমএসের ভর্তুকি বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৪১১ কোটি টাকা করা হয়েছে (১৭ শতাংশ হ্রাস)
- 📌 নগরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০২২ সালে ৭৯ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে ২০১০ সালে ছিল ৭৪ লাখ
- 📌 ওএমএসের সুবিধা না পেলে একটি পরিবারকে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে
- 📌 খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে
📰 বিস্তারিত
১৫ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওএমএসের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ও বরাদ্দের তথ্য উপস্থাপিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা বলেছেন, ওএমএস মূলত শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার সংখ্যা সীমিত এবং শহরের দরিদ্রদের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায় না।
সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ওএমএসের চালের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা, যেখানে বাজারে মোটা চাল ৫০-৫৫ টাকা এবং মাঝারি চাল ৫৬-৬৫ টাকা। ওএমএসের সুবিধা না পেলে পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয়ে বাড়তি ২০-২৫ টাকা লাগবে। কমানো ৬৪ হাজার টন চালের হিসাবে পরিবারগুলোর সম্মিলিত বাড়তি ব্যয় আনুমানিক ১২৮-১৬০ কোটি টাকা হতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি সুপারিশ করেছে, ওএমএসে চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ও ভর্তুকি বরাদ্দ অন্তত গত অর্থবছরের পর্যায়ে বহাল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় তা সমন্বয় করা। তারা আরও বলেছেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার এলাকায় ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং ডিলার পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।
"খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচি কমানো নয়, বরং আরও শক্তিশালী করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (নগর এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৪০ হাজার টন (চাল), ৩ লাখ ৫০ হাজার টন (আটা), ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা (ভর্তুকি বরাদ্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!