📌 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ও সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ ১১০ ডলারে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৯.৮৬ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ১৯ মে ছিল ১১১.২৮ ডলার। বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ও হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিকে তেল সরবরাহের জন্য প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে দিনের একপর্যায়ে দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটি মে মাসের পর থেকে ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, দিন শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৯.৮৬ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ১৯ মে ছিল ১১১.২৮ ডলার — পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
- 📌 ডব্লিউটিআই তেলের দাম এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে (১০১.৪১ ডলার)
- 📌 সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ও হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি বাড়ায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা
- 📌 ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করছে
- 📌 বিশ্লেষকরা ইয়ানবুতে হুতি হামলার আশঙ্কাকে তেল সরবরাহের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ও সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল রপ্তানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে সরবরাহ-সংকট আরও গভীর হতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, পরে যুদ্ধবিরতির খবরে কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করছে। তারা সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরেও হামলা করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারের উদ্বেগের কারণ শুধু বর্তমান সরবরাহ নয়, ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথ ইয়ানবু বন্দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল ইয়ানবুতে পরিবহন করা হচ্ছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, শুক্রবার ইয়ানবুর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তাদের বাহিনী। তবে বিশ্লেষকরা ইয়ানবুতে হুতি হামলার আশঙ্কাকে তেল সরবরাহের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে এই প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বেড়েছে। বিশ্লেষক শ্রেইনার পার্কার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারের ওপর হামলার কারণে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল এখন ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। ইয়ানবু বন্দর হামলার ঝুঁকিতে পড়লে সৌদি আরবের তেল সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ থাকতে পারে।
"ইয়ানবুতে হুতিদের হামলার আশঙ্কা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই বন্দরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারের ওপর হামলার কারণে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল এখন ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। এই তেল ইয়ানবু বন্দরে নামানো হয়। ফলে বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বন্দর হামলার ঝুঁকিতে পড়লে সৌদি আরবের তেল সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব, ইরান, ইয়েমেন, হরমুজ প্রণালি, ইয়ানবু বন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রেইনার পার্কার (রিস্টাড এনার্জি বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৯.৮৬ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুড), ১১০ ডলার (সর্বোচ্চ), ১০১.৪১ ডলার (ডব্লিউটিআই), ৩.৭% ও ৩.৫% (দামের বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!