📌 নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় আমন ধান রোপণের প্রস্তুতিতে কৃষকরা সার সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি করছেন। চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়ার অভাবে একাধিক ডিলারে ঘুরতে হচ্ছে তাদের। উপজেলায় ১০টি বিসিআইসি, ১৯টি বিএডিসি ও ৭২টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সার সরবরাহে সমস্যা চলছে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় আমন ধান রোপণের প্রস্তুতিতে কৃষকরা সার সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি করছেন। আউশ ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হওয়ার পর থেকে কৃষকদের সার সংগ্রহে অসুবিধা চলছে। চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়ার অভাবে একাধিক ডিলারে ঘুরতে হচ্ছে তাদের। গত রোববার ও আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের শাওন ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্সে সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বদলগাছীতে সার সংকটে কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি করছেন। চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়ার অভাবে একাধিক ডিলারে ঘুরতে হচ্ছে তাদের।
- 📌 সদর ইউনিয়নের শাওন ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্সে সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ফলে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।
- 📌 উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বদলগাছীতে ১০টি বিসিআইসি, ১৯টি বিএডিসি ও ৭২টি খুচরা সার বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
- 📌 চলতি মাসে বরাদ্দ ইউরিয়া ৩১২ টন, টিএসপি ১৮৮ টন, ডিএপি ৩৩৩ টন ও এমওপি ২৮০ টন।
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনা ঘটছে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেছেন, সাপাহার উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ৭০ টন সার আনা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃষকরা আমন ধান রোপণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে সার সংগ্রহে অসুবিধার কারণে তাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। সদর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিম, শমসের আলী ও মোস্তফা বলেছেন, প্রয়োজনীয় সার একসঙ্গে না পাওয়ায় এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, জমিতে কাজ করবেন না কি সারের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন?
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছীতে ১০টি বিসিআইসি ও ১৯টি বিএডিসি সার ডিলার এবং ৭২টি খুচরা সার বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ৬ হাজার ২৯০ টন, টিএসপি ১ হাজার ৬১৮ টন, ডিএপি ৪ হাজার ১০০ টন এবং এমওপি ২ হাজার ৪৮০ টন। তবে চলতি মাসে বরাদ্দ রয়েছে ইউরিয়া ৩১২ টন, টিএসপি ১৮৮ টন, ডিএপি ৩৩৩ টন ও এমওপি ২৮০ টন।
কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনা ঘটছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সদর ইউনিয়নের শাওন ট্রেডার্সের মালিক মো. শামসুল হক বলেছেন, তাঁর ডিলারের মাধ্যমে ডিএপি ও এমওপি দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরিয়ার চাহিদা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ লাইন হয়েছে।
আরেক ডিলার আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম বলেছেন, সার নিতে দীর্ঘ লাইন হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে রোববার সকাল থেকে ইউরিয়া দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একসঙ্গে সব ধরনের সার বরাদ্দ পেলে কৃষকদের ভোগান্তি কমত। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সদর ইউনিয়নে চলতি বছর ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেছেন, কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে সাপাহার উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ৭০ টন সার আনা হয়েছে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিটি ডিলারের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষি বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সার বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"প্রয়োজনীয় সার একসঙ্গে না পাওয়ায় এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। জমিতে কাজ করবেন না কি সারের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন?" — সদর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিম, শমসের আলী ও মোস্তফা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বদলগাছী উপজেলা, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিম, শমসের আলী, মোস্তফা, মো. শামসুল হক, মাসুদ করিম, মো. মেহেদী হাসান, ইসরাত জাহান ছনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি বিসিআইসি, ১৯টি বিএডিসি, ৭২টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, ৩১২ টন ইউরিয়া, ১৮৮ টন টিএসপি, ৩৩৩ টন ডিএপি, ২৮০ টন এমওপি, ৭০ টন অতিরিক্ত সার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!