📌 এনবিআরের তদন্তে নারায়ণগঞ্জের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠান ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি করেছে। গোপন অভিযানে দেখা গেছে, কারখানায় কোনো উৎপাদন নেই, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে এই অপব্যবহার উদ্ঘাটন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠান থেকে।
- 📌 ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল বৈধভাবে বিক্রি করেছে স্থানীয় বাজারে।
- 📌 ৯ সেপ্টেম্বর গোপন অভিযানে কারখানায় কোনো উৎপাদন ব্যবস্থা বা কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা পাওয়া যায়নি।
- 📌 বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ও ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি শনাক্ত করা হয়েছে।
- 📌 ১৩ অক্টোবর এনবিআর মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কাছে পাঠিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বুধবার (১৩ অক্টোবর) এনবিআর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বি/২৪০, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় বিভিন্ন শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করত।
তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানোর মাধ্যমে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি করেছে। অভিযানকালে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে অসংগতি শনাক্ত করেন। কারখানায় উৎপাদনসংশ্লিষ্ট মেশিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া কারখানার উৎপাদন ফ্লোরেও নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি প্রদর্শন করলেও বাস্তবে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে।
"বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।"
অধিদপ্তর আরও জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি এবং অনিয়ম শনাক্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা ও কারখানার বাস্তব কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া, ঢাকা দক্ষিণ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এনবিআর কর্মকর্তারা, ইউএজিএম বিডি লিমিটেডের মালিক/প্রতিষ্ঠান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!