📌 মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের জন্য চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয় বাংলাদেশ। প্রকল্পে দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ডস ও কার্গো হ্যান্ডলিং এলাকা নির্মাণ করা হবে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের সই করেছেন
মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয় বাংলাদেশ সরকার। এই ঋণের মাধ্যমে বন্দরে দুটি কনটেইনার টার্মিনালসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। চীনা মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪০ কোটি আরএমবি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার সমান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয় বাংলাদেশ সরকার মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের জন্য
- 📌 প্রকল্পে দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে
- 📌 ঋণে ২ শতাংশ সুদ ও ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছর সময় দেওয়া হয়েছে
- 📌 চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের সই করেছেন
- 📌 চীনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফেংজুন থিয়ান চুক্তিতে চীনের পক্ষে সই করেছেন
- 📌 মোংলা বন্দর চালু হয় ১৯৫০ সালে, বর্তমানে সীমিত পরিসরে কনটেইনার পরিচালনা করা হয়
- 📌 গত অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ২৯ হাজার ৭১৪ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৮৫ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়
📰 বিস্তারিত
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে এই ঋণ চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতি, দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, চীন সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২ শতাংশ সুদে নমনীয় ঋণ দিচ্ছে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোংলা বন্দর ১৯৫০ সালে চালু হয়। খুলনা জেলার চালনা এলাকায় যাত্রা শুরু হলেও ভৌগোলিক কারণে মাত্র তিন বছরের মাথায় কার্যক্রম বাগেরহাটের মোংলায় স্থানান্তরিত হয়। বন্দরটির কার্যক্রম শুরু হয় ‘দ্য সিটি অব লিয়নস’ নামের ব্রিটিশ বাণিজ্যিক জাহাজের আগমনের মধ্য দিয়ে। বর্তমানে মোংলা বন্দরে সীমিত পরিসরে কনটেইনার জাহাজ পরিচালনা করা হয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৫–২৬) দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়েছে। সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৯ শতাংশও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। বাকি ১ শতাংশ হয় মোংলা বন্দর দিয়ে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৯৮৭টি জাহাজ এসেছে এবং ৯৯৪টি জাহাজ বন্দর থেকে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৭টি ছিল কনটেইনারবাহী জাহাজ। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ২৯ হাজার ৭১৪ কনটেইনার পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় গত বছরে ৮ হাজার ২৫৮ কনটেইনার বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে।
"চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক সরকারকে এই ঋণ দেবে। এ জন্য গত শনিবার ব্যাংকটির সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোংলা বন্দর (বাগেরহাট), চট্টগ্রাম বন্দর (চট্টগ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলিয়া মেহের (বাংলাদেশের পক্ষে), ফেংজুন থিয়ান (চীনের পক্ষে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ, ২৪০ কোটি আরএমবি, ৩ হাজার কোটি টাকা, ২ শতাংশ সুদ, ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড, ২০ বছরের ঋণ পরিশোধ সময়সীমা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!