📌 মোংলা বন্দর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৭.৬৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কোটি ২২ লাখ টন কার্গো ও ২৯ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে বন্দরটি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেছেন, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ চলছে
মোংলা বন্দর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং ও রাজস্ব উন্নয়নের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, এক বছরে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৭.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নাব্যতা উন্নয়ন, কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন — লক্ষ্যমাত্রা ৯১ লাখ ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে
- 📌 কনটেইনার হ্যান্ডলিং ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস — আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৮.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি
- 📌 রাজস্ব আয় ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা — লক্ষ্যমাত্রা ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে
- 📌 ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২-৩ মাসে জেটির সামনে ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে
- 📌 ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে
- 📌 সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ৫টি জলযান সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে
- 📌 আগামী এক মাসের মধ্যে মোংলা বন্দরে ই-পেপার সার্ভিস চালু হবে
📰 বিস্তারিত
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্দরটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সহায়তা করবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বাস্তবে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন — যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন বা ১৭.৬৬ শতাংশ বেশি। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার টিইইউএস, কিন্তু হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস — যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ২৪৮ টিইইউএস বা ৩৮.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি।
রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও বন্দরটি সফলতা পেয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, কিন্তু বাস্তবে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা — যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বা ১১.৭৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে এবং ১২ হাজার ৭৫ ইউনিট রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে — যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।
"দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও বন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারে।"
চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, নাব্যতা উন্নয়নে ড্রেজিং বন্দরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে জেটির সামনে ৭.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিং করতে পারে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই সক্ষমতা ৯.৫ মিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা সম্ভব হলে জেটি পর্যন্ত ৯.৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বন্দরে আধুনিক হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।
সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। পারমিশন, ইকুইপমেন্ট বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কনটেইনারবাহী জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ১.৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩.৪৪ দিন। বর্তমানে বন্দরের ছয়টি কনটেইনার ইয়ার্ডে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোংলা বন্দর, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা (মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭.৬৬% (কার্গো হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি), ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন (কার্গো), ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস (কনটেইনার), ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা (রাজস্ব আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!