📌 মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাসকলাই চাষে পাতা ছিদ্রকারী পোকা ও আচা পোকার আক্রমণে কৃষকদের ফলন হুমকিতে পড়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না, যা চাষিদের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাসকলাই চাষে পাতা ছিদ্রকারী পোকা ও আচা পোকার আক্রমণে কৃষকদের ফলন হুমকিতে পড়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না, যা চাষিদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাংনী উপজেলায় মাসকলাই চাষে পাতা ছিদ্রকারী পোকা ও আচা পোকার আক্রমণে গাছের পাতা নষ্ট হচ্ছে, কীটনাশক ব্যর্থ হচ্ছে
- 📌 চাষি ইউসুফ আলী বলেন, ‘মাসকলাইয়ের গাছে ফুল ও ফল এসেছে, এমন সময়ে পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে হতাশা বেড়েছে’
- 📌 মাসকলাই চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়, ফলন কমলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে
- 📌 গত বছরের তুলনায় এবার মাসকলাই চাষের পরিমাণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর থেকে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর
- 📌 কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন পরামর্শ দেন, পাখি বসার ব্যবস্থা করে পোকা দমন করা যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাসকলাই চাষে পাতা ছিদ্রকারী পোকা ও আচা পোকার আক্রমণে কৃষকদের চাপ বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাসকলাইয়ের গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো পোকা দমন করা না গেলে ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তেরাইল মাঠের চাষি ইউসুফ আলী বলেন, ‘মাসকলাইয়ের গাছে ফুল ও ফল এসেছে। এমন সময়ে পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে আমরা হতাশ। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হচ্ছে না। পোকা দমন করতে না পারলে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে। প্রায় সব জমিতেই পোকার আক্রমণ দেখা গেছে।’
বামন্দী মাঠের চাষি মাছেদুল ইসলাম বলেন, ‘সার, ডিজেল, কীটনাশক ও সেচসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার পোকার আক্রমণ। কীটনাশকেও কাজ হচ্ছে না। পোকা দমন করা গেলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব।’
করমদী মাঠের চাষি মো. হাসান আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট মণ কলাই পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে লাভের আশা থাকে। কিন্তু যেভাবে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে, তাতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার মাসকলাইয়ের আবাদ বেড়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন পরামর্শ দেন, মাসকলাইয়ের পাতা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে কৃষকদের জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০টি ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পোকার আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড বা সিমবুশ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার বা এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপের কীটনাশক প্রোক্লেইম বা সাহাম প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করলে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
"মাসকলাইয়ের গাছে ফুল ও ফল এসেছে। এমন সময়ে পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে হতাশ। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হচ্ছে না। পোকা দমন করতে না পারলে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাংনী উপজেলা, মেহেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউসুফ আলী, মাছেদুল ইসলাম, মো. হাসান আলী, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর (চলতি মৌসুমের মাসকলাই চাষ), ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর (গত বছরের চাষ), ৪ হাজার টাকা (প্রতি বিঘা খরচ), ৮-১০টি (পাখি বসার ব্যবস্থা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!