📌 মেহেরপুরের কৃষকরা সার সংকটে ভুগছেন। ৮ বিঘা জমির মালিক জহিরুল ইসলাম সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৫০ কেজি সার পেয়েছেন। জেলায় আমন ধানের চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সারের বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। শীতকালীন সবজির চাষেও সার সংকটের মুখোমুখি কৃষকরা
মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলামের ৮ বিঘা জমিতে মাত্র ৫০ কেজি সার পাওয়ার পরিস্থিতি সার সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পাশের গ্রাম উজলপুরের ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি এই পরিমাণ সার পেয়েছেন। তবে এই পরিমাণ সার দিয়ে কীভাবে ফসল ফলাব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন কৃষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেরপুরের কৃষক জহিরুল ইসলাম ৮ বিঘা জমিতে মাত্র ৫০ কেজি সার পেয়েছেন, যা যথেষ্ট নয়
- 📌 সেপ্টেম্বর মাসে মেহেরপুরে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৯৭ মেট্রিক টন সার, কিন্তু চাহিদা ২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন
- 📌 শীতকালীন সবজির চাষেও সার সংকটের মুখোমুখি কৃষকরা, চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৪১ মেট্রিক টন
- 📌 ডিলার আবদুল আওয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ দিনের মধ্যে সার বিক্রি হয়ে যায়
- 📌 মেহেরপুর জেলায় আমন ধানের আবাদ বেড়েছে, গত মৌসুমের তুলনায় ৭০ হেক্টর বেশি
📰 বিস্তারিত
মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলামের ৮ বিঘা জমিতে আমন, কলা, করলা, পেঁয়াজ, ফুলকপি ও শসার চাষ চলছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সার কিনতে গিয়ে মাত্র ৫০ কেজি টিএসপি সার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ কেজি পেঁয়াজের জমিতে এবং ২০ কেজি করলার জমিতে ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, “৮ বিঘা জমিতে মাত্র ৫০ কেজি সার দিয়ে কীভাবে ফসল ফলাব?”
জহিরুল ইসলামের কথায় ইঙ্গিত আছে যে, ডিলারের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে খোলাবাজারে বাড়তি দামে সার বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ী। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, বিসিআইসির ডিলার আবদুল আওয়ালের বিক্রয়কেন্দ্রে গত ১-২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৩ মেট্রিক টন টিএসপি ও ডিএপি সার উত্তোলন করেছেন। তবে ইউনিয়নের চাহিদা তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শস্য) শায়খুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে। এক হেক্টর ৭ দশমিক ৪৭ বিঘা হিসাবে এবার জেলায় ২ লাখ ১ হাজার ১৬৭ বিঘা জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। গত মৌসুমের তুলনায় ধানের আবাদ বেড়েছে। ফলে সারের চাহিদাও বেড়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আমন ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১৩ কেজি ডিএপি বা টিএসপি প্রয়োজন। সেই হিসাবে শুধু আমন ধানের জন্য মেহেরপুরে ডিএপি ও টিএসপি সার প্রয়োজন প্রায় ২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন।
অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে মেহেরপুরে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৯৭ মেট্রিক টন সার। এই বরাদ্দের পুরোটাই আমন চাষের জমিতে দেওয়া হলেও, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, তা যথেষ্ট হবে না। একই সময়ে শীতকালীন সবজির চাষেও সার দিতে হচ্ছে কৃষকদের। মেহেরপুর জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫৮ হাজার ৫০৭ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। আমনের পাশাপাশি সবজির আবাদও বেশি হওয়ায় বছরের এই সময়ে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।
"চলতি মৌসুমে আমনের জমিতে সার দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা শীতকালীন সবজিও চাষ করছেন। যে কারণে এখন সারের চাহিদা অনেক বেশি। যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা ১৫ দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।"
মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জামিরুল ইসলামের ৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি এবং ১ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ চলছে। তিনি বলেন, “এক বিঘা ফুলকপির জমিতে ৪০০ কেজি টিএসপি সার প্রয়োজন, কিন্তু আমি পাচ্ছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেহেরপুর সদর উপজেলা, নিশ্চিন্তপুর গ্রাম, কুতুবপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহিরুল ইসলাম, আবদুল আওয়াল, শায়খুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জামিরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বিঘা জমি, ৫০ কেজি সার, ২৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর আমন চাষ, ২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন সার চাহিদা, ১৫ দিনের মধ্যে সার বিক্রি হয়ে যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!