📌 মানিকগঞ্জের জয়নগর গ্রামের কৃষাণী আলপনা রানী ভাসমান গাওতায় বর্ষাকালে সবজি ও মসলা উৎপাদন করে। এই পদ্ধতিতে তিনি ৬০ হাজার টাকার লাভের আশা করছেন এবং জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষিকে টিকিয়ে রাখার নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছেন
মানিকগঞ্জের জয়নগর গ্রামের কৃষাণী আলপনা রানী সরকার বর্ষার পানিতে ভাসমান গাওতায় সবজি ও মসলা উৎপাদন করে কৃষিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন। জলাবদ্ধ নিম্নাঞ্চলে প্রচলিত চাষাবাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টিপাত ও বন্যা, কিন্তু আলপনা রানীর উদ্ভাবনী পদ্ধতি সেই সমস্যার সমাধান করে তুলেছে। তিনি খালের পানিতে তৈরি ভাসমান গাওতায় ঢ্যাঁড়স, শিম, লালশাক, লাউ ও ধনেপাতার চাষ করছেন এবং প্রতিটি গাওতা থেকে ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকার লাভের আশা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকগঞ্জের জয়নগর গ্রামের কৃষাণী আলপনা রানী সরকার ভাসমান গাওতায় বর্ষাকালে সবজি ও মসলা উৎপাদন করছেন
- 📌 ১০ হাত লম্বা ও ৩ হাত চওড়া ভাসমান গাওতা তৈরি করে তিনি ঢ্যাঁড়স, শিম, লালশাক, লাউ ও ধনেপাতা চাষ করছেন
- 📌 প্রতিটি গাওতা থেকে ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করে তিনি ৬০ হাজার টাকার লাভের আশা করছেন
- 📌 এই পদ্ধতিতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না এবং বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়
- 📌 বেসরকারি সংস্থা বারসিকের কর্মকর্তা সুবীর সরকার বলেছেন, জলাবদ্ধ এলাকায় এই পদ্ধতি কার্যকর অভিযোজন হতে পারে
- 📌 ঘিওর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেছেন, বর্ষায় অনাবাদি জমিতে ভাসমান চাষের সুযোগ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের জয়নগর গ্রামের কৃষাণী আলপনা রানী সরকার বর্ষার পানিতে ভাসমান গাওতায় সবজি ও মসলা উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন। তিনি জয়নগর খালের পানিতে তৈরি করেছেন ভাসমান গাওতা, যেখানে কচুরিপানা ও আমন ধানের নাড়া স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা হয়। এই গাওতা সাধারণত ১০ হাত লম্বা ও ৩ হাত চওড়া হয় এবং চাষের উপযোগী হতে সময় লাগে দু-তিন মাস। গাওতা প্রস্তুত হলে সরাসরি বিভিন্ন সবজি ও মসলার বীজ রোপণ করা যায়। পানির উচ্চতা বাড়লে বেডও পানির সঙ্গে ওপরে ওঠে, ফলে অতিবৃষ্টি ও মৌসুমি বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
আলপনা রানী বলেছেন, ‘খাল, বিল, নদী, পতিত এবং অনাবাদি জায়গাকে এ পদ্ধতিতে চাষের আওতায় আনা যায়। বর্ষায় সবজি ও মসলা উৎপাদনের পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করা সম্ভব এখানে। আমি ঢ্যাঁড়স, শিম, লালশাক, লাউ, ধনেপাতার চাষ করেছি। পানি শুকিয়ে গেলেও গাওতা থেকে এক বছর সবজি পাওয়া যায়।’ তিনি জানিয়েছেন, সংসারের চাহিদা মিটিয়েও প্রতিটি গাওতা থেকে ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করা যাবে। এ বছর তিনি তিনটি গাওতা থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।
বেসরকারি কৃষি গবেষণা সংস্থা বারসিকের বানিয়াজুরী আঞ্চলিক কর্মকর্তা সুবীর সরকার বলেছেন, ‘নিম্নাঞ্চলে প্রচলিত কৃষি ব্যাহত হলে ভাসমান চাষ কার্যকর অভিযোজন হতে পারে। স্থানীয় উপকরণে গাওতা তৈরি করে অনাবাদি জলমগ্ন জায়গাকে উৎপাদনে আনা সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি ছড়াতে প্রশিক্ষণ, মানসম্মত বীজ এবং বাজার সংযোগ জরুরি।’ ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেছেন, ‘বর্ষায় যেসব জমিতে প্রচলিতভাবে চাষ করা যায় না, সেখানে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।’
"খাল, বিল, নদী, পতিত এবং অনাবাদি জায়গাকে এ পদ্ধতিতে চাষের আওতায় আনা যায়। বর্ষায় সবজি ও মসলা উৎপাদনের পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করা সম্ভব এখানে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়নগর গ্রাম, মানিকগঞ্জ, জয়নগর খাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলপনা রানী সরকার, সুবীর সরকার, তাহমিনা খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাত (গাওতার দৈর্ঘ্য), ৩ হাত (গাওতার প্রস্থ), ২০ হাজার টাকা (প্রতি গাওতা থেকে লাভ), ৬০ হাজার টাকা (মোট আশা করা লাভ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!