📌 মাদ্রাসায় পড়া ২২ বছর বয়সী আবদুল্লাহ ৪০ টাকায় কিনে নেওয়া দুটি মাছ দিয়ে আট বছরে ৩০ লাখ টাকার হ্যাচারি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি ৩০ ধরনের শৌখিন মাছ চাষ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ বিক্রি করছেন
মাদ্রাসায় পড়া এক ছাত্রের শৌখিন মাছ চাষ শুরু থেকে বাণিজ্যিক হ্যাচারি ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়েছে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের আবদুল্লাহ (২২) ৪০ টাকায় কিনে নেওয়া দুটি মাছ দিয়ে আট বছরে ৩০ লাখ টাকার পুঁজি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি বাড়ির উঠানের পাশে ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুরে ৩০ ধরনের শৌখিন মাছ চাষ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ বিক্রি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল্লাহ ৪০ টাকার মাছ দিয়ে শুরু করে আট বছরে ৩০ লাখ টাকার হ্যাচারি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন
- 📌 বর্তমানে তিনি ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুরে ৩০ ধরনের শৌখিন মাছ চাষ করছেন
- 📌 মাছ বিক্রি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন জায়গায়
- 📌 পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রথমে মাছ চাষকে পাগলামি হিসেবে দেখতেন, কিন্তু তিনি সফলতা পেয়েছেন
- 📌 মৎস্য কর্মকর্তারা তাঁকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে অন্যদের মাছ চাষে উৎসাহিত করছেন
📰 বিস্তারিত
আবদুল্লাহ (২২) যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়েন। চার বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে শৌখিন মাছ চাষ করছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর হ্যাচারিতে রয়েছে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কমেট, কই কাপ, গাপ্পি, মলি শর্ট টেল, এঞ্জেল ফিশ, অরেঞ্জ মলি, ব্ল্যাক মলি, হোয়াইট মলিসহ ৩০ ধরনের মাছ।
আবদুল্লাহের মাছ চাষের শুরু ছিল এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখানে দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি ৪০ টাকায় দুটি মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই মাছ পরিচর্যা করার পর আরও মাছ তৈরি হয়। সেখান থেকে উৎসাহ পেয়ে তিনি রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। বাড়ির উঠানের পাশে ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুরে জাল দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ করছেন তিনি। চৌবাচ্চাগুলোতে মাছ চাষের সহায়ক শেওলা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দেওয়া হয়।
আবদুল্লাহ জানান, তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করার সময় পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিষয়টিকে পাগলামি হিসেবে দেখতেন। কিন্তু তিনি কারও কথা না শুনে মাছ চাষ শুরু করে দেন। বর্তমানে পরিবার ও প্রতিবেশীরা তাঁর সাফল্য দেখে তাঁকে সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, গত চার বছর বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকা পুঁজি হয়েছে। এটিকে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের অন্যতম অবলম্বন বানাতে চান তিনি।
"চৌবাচ্চায় মাছ চাষের উপযোগী শেওলা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দেওয়া হয়। কোনোটায় ছোট মাছ তৈরি হচ্ছে, কোনোটায় বিক্রির জন্য মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।"
আবদুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম প্রথম ছেলের এই মাছের চাষ দেখে আমরা তাকে বাধা দিয়েছি। পরে তার জোরাজুরিতে মত দিই। এখন হ্যাচারিতে অনেক মাছ আছে, তা থেকে বাণিজ্যিকভাবে লাভও আসছে।’ তিনি বলেন, ছেলের সাফল্য দেখে তাঁরাও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
আবদুল্লাহ জানান, তাঁর হ্যাচারির শৌখিন মাছ এখন নিয়মিত ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে মাছ কিনে বাসাবাড়ির অ্যাকুয়ারিয়াম সাজাচ্ছে মানুষ। তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি, এই মাছ চাষ করে তিনি এমন সফলতা পাবেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোরের কেশবপুর উপজেলা, মাগুরখালী গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ (২২), হাবিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ টাকা, ৬০টি চৌবাচ্চা, ৩০ ধরনের মাছ, ৪০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!