📌 মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে তৈরি টমেটো চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি হচ্ছে। প্রতি বছর ৬৫ লাখ চারা উৎপাদিত হয়, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে তৈরি টমেটো চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি হচ্ছে। এই বিশেষ কৃষি প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে তুলেছে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫ লাখ চারা উৎপাদিত হয়, যা কৃষকদের জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কমলগঞ্জে প্রতি বছর ৬৫ লাখ গ্রাফটিং টমেটো চারা উৎপাদিত হয়, প্রতিটি ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়
- 📌 গ্রাফটিং পদ্ধতিতে তৈরি টমেটো গাছ সাধারণ গাছের তুলনায় ৮ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে, রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয়
- 📌 গ্রাফটিং চারা তৈরিতে শ্রমিকরা প্রতি চারা জন্য ১ টাকা মজুরি পায়, দিনে ৭০০ থেকে ১ হাজার চারা জোড়া লাগাতে পারেন
- 📌 কমলগঞ্জে প্রায় ৩০০টি নার্সারি রয়েছে, চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চারা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় তিত বেগুন ও টমেটোর আলাদা বীজতলা তৈরি করে। তিত বেগুনের চারা উপযুক্ত হতে লাগে প্রায় ৩৫ দিন, আর টমেটোর চারা তৈরি হতে লাগে ২৫ দিন। পরে স্বাস্থ্যবান ও সমান আকারের চারাগুলো বাছাই করে গ্রাফটিং করা হয়। একটি চারা গ্রাফটিংয়ের জন্য শ্রমিকরা প্রায় এক টাকা করে মজুরি পান। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে একজন শ্রমিক দিনে ৭০০ থেকে ১ হাজার চারা জোড়া লাগাতে পারেন।
কমলগঞ্জের আরিফ হাইব্রিড টমেটো নার্সারি অ্যান্ড প্রোডাক্টসের মালিক এম এ করিম বলেন, তিনি আগে সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। চাকরি থেকে অবসরের পর সেনাবাহিনীর একটা প্রজেক্টে রংপুরে গিয়ে গ্রাফটিং টমেটোর চারা তৈরির কাজ শেখেন। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার পর কমলগঞ্জে এসে এই চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে এলাকায় এই কাজ খুব বেশি পরিচিত ছিল না। পরে আমার দেখাদেখি অনেক কৃষক এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। এখন কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাফটিং টমেটোর চারা তৈরি হচ্ছে। আমার নার্সারিতে সপ্তাহে প্রায় ৮০ হাজার চারা তৈরি ও বিক্রি হয়। এখানে প্রায় ৬০ জন শ্রমিক দিন-রাত মিলিয়ে তিন শিফটে কাজ করেন।’
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, গ্রাফটিং করা টমেটোগাছ সাধারণ গাছের তুলনায় শক্ত হয় এবং সহজে ঢলে পড়ে না। রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়। সাধারণ টমেটোগাছ তিন মাস বাঁচে আর গ্রাফটিং করা টমেটোগাছ আট মাস বাঁচে। এসব চারার জীবনকাল বেশি হওয়ায় এর চাহিদা শুধু কমলগঞ্জেই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ব্যাপক।
কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষির একটি বিশেষ দিক হয়ে উঠেছে গ্রাফটিং টমেটো। গ্রাফটিং চারা বানানোর প্রায় ৩০০ নার্সারি আছে কমলগঞ্জে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও গ্রাফটিং চারার নার্সারি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রায় হাজারো কৃষক যুক্ত রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
"গ্রাফটিং করা টমেটোগাছ সাধারণ গাছের তুলনায় শক্ত হয় এবং সহজে ঢলে পড়ে না। রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়।"
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি উপজেলায় যোগদানের পর গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদনের বিষয়টি আমার নজরে আসে। এটি এই এলাকার সম্ভাবনাময় একটি কৃষি খাত। কৃষকেরা যেন আরও ভালোভাবে চারা উৎপাদন করতে পারেন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা যেন সহজে এসব চারা সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কমলগঞ্জ উপজেলা, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রাকিবুল ইসলাম, এম এ করিম, সন্দ্বীপ তালুকদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ লাখ চারা, ১২-১৫ টাকা প্রতি চারা, ৩৫ দিন (তিত বেগুন চারা), ২৫ দিন (টমেটো চারা), ৭০০-১০০০ চারা/দিন/শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!