📌 কচুরিপানা থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির উদ্যোগে বাংলাদেশের নারীরা মাসে ৬-৭ হাজার টাকা আয় করছেন। বরিশাল ও ফরিদপুরের উদ্যোক্তারা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আনে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছে
বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা কচুরিপানা থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির মাধ্যমে মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন এবং বৈদেশিক রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আনে। কচুরিপানা, যা বাংলাদেশের খাল-বিল, পুকুর ও নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, এখন হস্তশিল্পের মূল উপাদান হয়ে উঠেছে। পাবনা, বরিশাল, যশোর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের ‘প্রকৃতি’ সংস্থা কচুরিপানা থেকে তৈরি করে ছবির অ্যালবাম, নোটবুক, গহনা, ঝুড়ি, গিফট বক্স, গ্রিটিংস কার্ড ও মালা — এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ ২০টি দেশে রফতানি হয় মাসে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার মূল্যে
- 📌 ‘লাম ক্রিয়েশন’ কারখানায় ৩০০ বেকার নারী কর্মসংস্থান পেয়ে মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন; প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা পেয়েছে
- 📌 বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কচুরিপানা ও ফেলে দেওয়া ডেনিম দিয়ে পরিবেশবান্ধব জুতার ইনসোল ও সোল তৈরি করেছেন
- 📌 কচুরিপানা থেকে পণ্য তৈরির ফলে বরিশালের জলাশয়গুলো কচুরিপানামুক্ত হচ্ছে, যা পোকামাকড়ের আবাস ধ্বংস থেকে রক্ষা করছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে কচুরিপানা থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। বরিশালের ‘প্রকৃতি’ সংস্থার নারীরা কচুরিপানার কাগজ দিয়ে ছবির অ্যালবাম, নোটবুক, গহনা, ঝুড়ি, গিফট বক্স, গ্রিটিংস কার্ড ও মালা তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছেন। সংস্থার ডিজাইনার সুরাইয়া চৌধুরী জানান, এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ প্রায় ২০টি দেশে রপ্তানি হয়।
বরিশালের এক হাজারেরও বেশি নারী ‘প্রকৃতি’ সংস্থায় কাজ করছেন এবং মাসে গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন। এছাড়াও, বছর শেষে তারা লাভের অংশও পেয়ে থাকেন। কচুরিপানা দিয়ে পণ্য তৈরির ফলে বরিশালের জলাশয়গুলো কচুরিপানামুক্ত হচ্ছে, যা পোকামাকড়ের আবাস ধ্বংস থেকে রক্ষা করছে।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ‘লাম ক্রিয়েশন’ নামের একটি হস্তশিল্প কারখানায় নারী উদ্যোক্তা সাবেকুন্নাহার মিতু পাট, হোগলাপাতা ও কচুরিপানা দিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করছেন। তিনি ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিজের গ্রামে ৫ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে কারখানা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার দুইটি কারখানায় ৩০০ জন নারী শ্রমিক কাজ করছেন। মিতু সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কচুরিপানা ও ফেলে দেওয়া ডেনিমের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব জুতার ইনসোল ও সোল তৈরি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মার্জিয়া দুলালের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ল্যাব কোর্সের অংশ হিসেবে প্রথমে গন্ধহীন মোজা তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন, পরে কচুরিপানা দিয়ে জুতার অনুষঙ্গ তৈরি করার কাজ শুরু করেন।
"প্রকৃতি-র হয়ে যেসব নারী কাজ করেন তাঁরা মাসে গড়ে প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া বছর শেষে তাঁরা লাভের অংশও পেয়ে থাকেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল, ফরিদপুর (মধুখালী), পাবনা, রাজবাড়ী, যশোর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুরাইয়া চৌধুরী (প্রকৃতি সংস্থা), সাবেকুন্নাহার মিতু (লাম ক্রিয়েশন), অন্বয় দেবনাথ, অর্ণব হালদার, ফারদীন বিন মনির, তাশফিক হোসাইন (বুটেক্স শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর, ৬-৭ হাজার টাকা, ৩৫-৪০ লাখ টাকা, ৩০০ জন বেকার নারী, ৩০ কিলোমিটার, ৫ লাখ টাকা, ১২টি মেশিন, ১৫ জন শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!