📌 ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশেরও বেশি হলেও শেয়ারবাজার ২০২৬ সালে অন্যতম খারাপ পারফর্ম করেছে। হরমুজ প্রণালির জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, বৈরী অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাহার এই ধসের পেছনে পাঁচটি মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশেরও বেশি হলেও দেশটির শেয়ারবাজার ২০২৬ সালে অন্যতম খারাপ পারফর্ম করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির এই বাজার টানা আট সপ্তাহ ধরে পতনের মুখ দেখার পর চলতি সপ্তাহে সামান্য উত্থান দেখলেও মূল সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ধসের পেছনে পাঁচটি মূল কারণ রয়েছে যা অর্থনীতির স্বাস্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের শেয়ারবাজার (নিফটি ও সেফেক্স) টানা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বদীর্ঘ ৮ সপ্তাহ ধরে পতনের মুখ দেখেছে, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১৫% মূলধন হাওয়া হয়ে গেছে
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা ৬২% মুনাফা পেতেন, গত দুই বছরে রিটার্ন ১৭০% হত
- 📌 বিদেশী বিনিয়োগকারীরা গত দুই বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন, যা বাজারকে চরম সংকটে ফেলেছে
- 📌 ভারতের মিউচুয়াল ফান্ডের তহবিল ২০১৬ সালের ১২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৯০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, কিন্তু বাজারের দরপতন বিনিয়োগকারীদের চাপে দিচ্ছে
- 📌 কর্মসংস্থানের অবনতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং টানা কমতে থাকা ব্যবহারের কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর শেয়ারবাজারে জমানো পুঁজি ধসে পড়ায় চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির ভারতের শেয়ারবাজার ২০২৬ সালে অন্যতম খারাপ পারফর্ম করেছে। হরমুজ প্রণালির জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, বৈরী অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাহার এই ধসের পেছনে পাঁচটি মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভারতের শীর্ষ সূচক নিফটি ও সেফেক্স টানা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বদীর্ঘ ৮ সপ্তাহ ধরে পতনের মুখ দেখার পর চলতি সপ্তাহে সামান্য উত্থান দেখলেও মূল সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির জ্বালানি সংকট ভারতের অর্থনীতিতে চরম প্রভাব ফেলেছে। এই প্রণালি দিয়ে ভারতের ৯০% বেশি খনিজ তেল আমদানি করা হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যরত দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় টান পড়ছে এবং অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সুদহারের উচ্চতর হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সমস্যা। মার্কিন সরকারি বন্ডের প্রকৃত সুদ বা ইয়েল্ড বর্তমানে ৫% এর ওপরে উঠে গেছে, যা প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই উচ্চ সুদহার বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে নিরাপদ মার্কিন বন্ডের দিকে আকর্ষণ করছে, ফলে ভারতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে মূলধন প্রত্যাহার হচ্ছে।
দুর্বল রুপির কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দরপতনের কারণে মুদ্রার মান হিসাব করলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি আরও বেড়েছে।
"এই একক কারণই বাজারে ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খনিজ তেলের দাম ৭০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকলে বাজার তা সামলে নিতে পারে। কিন্তু যখনই ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তখন মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় টান পড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে।"
ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন্ডিয়ার ফান্ড ম্যানেজার হরি শ্যামসুন্দর বলেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হরি শ্যামসুন্দর (ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন্ডিয়া)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি কারণ, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ১৫% মূলধন হাওয়া, ৬২% মুনাফা, ১৭০% রিটার্ন, ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার, ১২৫ বিলিয়ন থেকে ৯০০ বিলিয়ন ডলার মিউচুয়াল ফান্ডের বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!