📌 ভারত সরকার বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকর্তাদের ওপর সর্বোচ্চ টনপ্রতি ৪৪৫ মার্কিন ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। ৩৬টি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর পণ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক এই পদক্ষেপকে 'একপাক্ষিক' বলে সমালোচনা করেছেন
ভারত সরকার বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকর্তাদের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এই শুল্কের সর্বোচ্চ হার টনপ্রতি ৪৪৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাটের সুতা, চটের কাপড় এবং পাটের বস্তাসহ বিভিন্ন পাটজাত পণ্যের ওপর পণ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন শুল্কের প্রবর্তন করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারত সরকার বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকর্তাদের ওপর সর্বোচ্চ টনপ্রতি ৪৪৫ মার্কিন ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে
- 📌 ৩৬টি নির্দিষ্ট বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর পণ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন শুল্কের প্রবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন শুল্ক ৫৯ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার
- 📌 পাটের বস্তা রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ওপর টনপ্রতি ১২০ ডলার শুল্ক আরোপ করা হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে (এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলি জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ) সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে
- 📌 নাটোর জুট মিলস এবং জনতা জুট মিলসকে বস্তা ও পাটসুতার কাপড়ের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে
- 📌 ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটিআর-এর তদন্তে বাংলাদেশের ৩৮টি এবং নেপালের ৫টি প্রতিষ্ঠান সাড়া দিয়েছে
- 📌 বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে 'একপাক্ষিক' ও 'নিপীড়নমূলক' বলে সমালোচনা করেছেন
- 📌 ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের পাটপণ্য রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১৭ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পাটের সুতা (ইয়ার্ন/টোয়াইন), চটের কাপড় (হেসিয়ান ফ্যাব্রিক) এবং পাটের বস্তাসহ বিভিন্ন পাটজাত পণ্যের ওপর পণ্যভেদে নতুন শুল্কের প্রবর্তন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর)-এর একটি মধ্যবর্তী পর্যালোচনার পর বাস্তবায়িত হয়েছে। ডিজিটিআর-এর দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে কম মূল্যে পাটপণ্য সরবরাহ করছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ পাটশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি নির্দিষ্ট পাটপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘আশা জুট ইন্ডিয়া লিমিটেড’ সর্বনিম্ন শুল্কের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানিকৃত পাটের সুতার ওপর টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। পাটের বস্তা রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ওপর টনপ্রতি ১২০ ডলার শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা সুতলি রপ্তানি করা হলে তার ওপর সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
ভারতের বাজারব্যবস্থায় ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলি জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এসব প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নাটোর জুট মিলস এবং জনতা জুট মিলস—এই দুটি প্রতিষ্ঠান বস্তা এবং পাটসুতার কাপড়ের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেয়েছে।
ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টোয়াইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুনে ডিজিটিআর এই পর্যালোচনা শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৫৪টি এবং নেপালের ৩৬টি পাটকলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি এবং নেপালের ৫টি কারখানা সাড়া দেয়। ডিজিটিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালীন সময়ে ভারতে পাটপণ্যের সার্বিক চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। ভারতের দাবি, এর মাধ্যমে বিদেশি রপ্তানিকারকেরা স্থানীয় মিলগুলোর বাজার শেয়ার দখল করে নিচ্ছে।
"অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ভারত যে ভর্তুকির হার বিবেচনা করেছে, তা বহু বছর আগের। বাস্তবে বাংলাদেশে রপ্তানি ভর্তুকির পরিমাণ অনেক কমে এসেছে। তারা মনে করছে আমরা বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি পাই, যা সত্য নয়।"
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেছেন। তিনি ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘একপাক্ষিক’ এবং ‘নিপীড়নমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাপস প্রামাণিক (বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪৫ মার্কিন ডলার (সর্বোচ্চ শুল্ক), ৩৬টি প্রতিষ্ঠান, ৫৯ ডলার (সর্বনিম্ন শুল্ক), ১২০ ডলার (বস্তা শুল্ক), ১৮ শতাংশ (রপ্তানি কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!