📌 ভারত বাংলাদেশ ও নেপালের পাটপণ্যে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৪০ মার্কিন ডলার সিভিডি আরোপের সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশের পাট খাতের জন্য এটি দ্বৈত শুল্কচাপের সম্মুখীন হওয়ার নতুন ঝুঁকি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং দিল্লিতে যৌথ কার্যদলের বৈঠকে সমাধান চায়
ভারত বাংলাদেশ ও নেপালের পাটপণ্যে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৪০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কাউন্টারভেইলিং ডিউটি (সিভিডি) আরোপের সুপারিশ করেছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পাট খাতের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে, যখন ইতিমধ্যে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) গত সোমবার এই সুপারিশ প্রকাশ করেছে, যা পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারত বাংলাদেশ ও নেপালের পাটপণ্যে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৪০ মার্কিন ডলার সিভিডি আরোপের সুপারিশ করেছে।
- 📌 বাংলাদেশের ২৪টি পাটকল সহযোগিতা করে, তাদের মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা শুল্কহার (১০১.৫৪ থেকে ১৩২.৩৬ ডলার) নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
- 📌 ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি ১৮% কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমেছে, আয় ৮২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
- 📌 বাংলাদেশের পাট খাতকে ধ্বংস করতে ভারত গায়ের জোরে শুল্কচাপ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন।
- 📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতকে সিভিডি তদন্ত বন্ধ করার অনুরোধ করেছে, কারণ একই পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও সিভিডি একসঙ্গে আরোপ করা বৈধ নয়।
📰 বিস্তারিত
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিজিটিআর গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে পাঁচ বছরের জন্য সিভিডি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এই শুল্কের হার নির্ধারণে বাংলাদেশের ২৪টি পাটকল সহযোগিতা করেছে। ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে তিনটি রপ্তানিকারক গ্রুপে ভাগ করে তাদের জন্য আলাদা শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শুল্কহার প্রতি টনে ১০১.৫৪ থেকে ১৩২.৩৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৬.৪৮ ডলার। অন্য সব পাটপণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে ১৪০.০৪ ডলার। নেপালের রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪.৭৭ থেকে ৬০.৫৪ ডলার।
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) ভারতের এই উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির সভাপতি তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর থাকার পর কীভাবে আবার সিভিডি আরোপ করা যায়, তা আমার মাথায় আসে না। সরকারের উচিত হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নালিশ করা।’
২০২৫ সালের এক তদন্তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাটপণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার ১২টি অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের পাট খাতের প্রতিনিধিরা ভারতের এই অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লিখিতভাবে ভারতীয় তদন্তের আইনগত ভিত্তি, ভর্তুকির হিসাব, ক্ষতির তথ্য এবং সম্ভাব্য দ্বৈত প্রতিকারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলেছেন, একই পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও সিভিডি একসঙ্গে আরোপ করা বৈধ নয়।
বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, ‘সিভিডির তদন্ত থেকে সরে আসতে লিখিতভাবে ভারতকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। দিল্লিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কার্যদলের বৈঠক রয়েছে। সে বৈঠকে পাটপণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ ও সিভিডি আরোপের বিষয়টি আলোচনা করা হবে। আশা করছি, সমাধানের উপায় বের হবে।’
“ভারত গায়ের জোরে এগুলো করছে। বাংলাদেশের পাট খাতকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে আছে দেশটি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাযথ কোনো প্রতিবাদ করা হয় না বলে একধরনের সুযোগ নিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিক।”
“অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর থাকার পর কীভাবে আবার সিভিডি আরোপ করা যায়, তা আমার মাথায় আসে না। সরকারের উচিত হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নালিশ করা।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (ডিজিটিআর), দিল্লি (যৌথ কার্যদল বৈঠক), বাংলাদেশ (পাটকল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাপস প্রামাণিক (বিজেএসএ সভাপতি), মো. আতাউর রহমান খান (বাণিজ্যসচিব), মো. আবুল হোসেন (বিজেএসএ চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪০.০৪ মার্কিন ডলার (সিভিডি), ৪৪৫.০০ ডলার (অ্যান্টি-ডাম্পিং), ১২টি (ভর্তুকির অভিযোগ), ২৪টি (বাংলাদেশের পাটকল), ১৮% (রপ্তানি হ্রাস), ৮২ কোটি ডলার (২০২৪–২৫ অর্থবছরের আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!