📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। এছাড়াও, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন বেকার থাকার হার ১৭% এর বেশি। আইএমএফের প্রতিবেদনে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে
বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়াজুড়ে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষত, বেশি শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই এই হার সর্বোচ্চ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার — আইএমএফ প্রতিবেদন
- 📌 উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ২৯ শতাংশ বেকার, তাদের মধ্যে ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরের বেশি সময় বেকার
- 📌 ২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারী শ্রমশক্তির ৩.৯ শতাংশ, ২০২২ সালে তা বেড়ে ৯ শতাংশে
- 📌 প্রতি বছর ২২-২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি
- 📌 শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪৩ শতাংশ, ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি
- 📌 এআই প্রবৃদ্ধি কর্মীদের শ্রমবাজারে চাপ বাড়াতে পারে, উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমতে পারে
📰 বিস্তারিত
আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষত, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, গত ২০ বছরে স্নাতক ডিগ্রিধারী শ্রমশক্তির সংখ্যা বেড়েছে। ২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারী শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকার রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজার তরুণ-তরুণী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। এই বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেকার থাকেন।
বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেছেন, প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি। অর্থনৈতিক কাঠামোও পরিবর্তন হয়নি। ফাহিম মাশরুরের মতে, নতুন স্নাতক ডিগ্রিধারী নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি।
আইএমএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। এআই মডেল ব্যবহার করে জটিল কাজ বিনা মূল্যে করা সম্ভব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি পদের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে।
"প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ তরুণ স্নাতক ডিগ্রিধারী। কিন্তু নতুন স্নাতক ডিগ্রিধারী নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ (শ্রীলঙ্কা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাহিম মাশরুর (বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ শতাংশ (শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার), ২৯ শতাংশ (উচ্চশিক্ষিত বেকার), ১৭ শতাংশ (দীর্ঘদিন বেকার), ২৬ লাখ ২৪ হাজার (বেকার সংখ্যা), ২২-২৩ লাখ (প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশকারী তরুণ-তরুণী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!