📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জ্বালানি ভর্তুকি কমানো এবং লক্ষ্যবিশেষক আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৪.৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জ্বালানি খাতে সর্বজনীন ভর্তুকি বাতিল করে লক্ষ্যবিশেষক আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, বর্তমান অবস্থায় পণ্য ও সেবার দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর পরিবর্তে আইএমএফ লক্ষ্যবিশেষক আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরামর্শ দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে
- 📌 ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেশি
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অস্থিরতা জ্বালানি মূল্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে
- 📌 নিম্ন আয়ের দেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্বালানি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সর্বাধিক ক্ষতির মুখে পড়ছে
- 📌 আইএমএফের এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন জানান, ২০২৫ সালে অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ, কিন্তু ২০২৬ সালে তা ৪.৮ শতাংশে কমে যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের এলজি-০৩ হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এবং ডেপুটি ডিরেক্টর সোনালি জেইন চান্দ্রা এসব বিষয় তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির যোগাযোগ কর্মকর্তা পাভিস দেবাস্বাদি।
১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে প্রকাশিত ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিপথ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন।
আইএমএফের মূল্যায়নে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখন পর্যন্ত সহনশীলতা দেখিয়েছে, তবে এই সাফল্য সব দেশের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলো তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে, যেখানে অন্যান্য খাতগুলো প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশ, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো জ্বালানি, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও সারের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সর্বাধিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ভালো ছিল। তবে দেশভেদে প্রবৃদ্ধির চিত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ, কিন্তু ২০২৬ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় এই হার ০.৪ শতাংশ বেশি, যা অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি নির্দেশ করে।
"২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ভালো ছিল। তবে নিম্ন আয়ের অর্থনীতি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।"
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ কোরিয়া, আসিয়ানভুক্ত দেশ, চীন, ভারত ও জাপানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, এআই অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা রপ্তানি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়তা করছে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবিধা না পাওয়ার কারণে কিছু দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে।
কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া বা সম্পদের মূল্যায়নে পরিবর্তন ঘটলে এশিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থাইল্যান্ডের ব্যাংকক (কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন (আইএমএফের এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪.৮ শতাংশ (২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি), ৫ শতাংশ (২০২৫ সালের প্রবৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!