📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.২ শতাংশে নিয়ে এসেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্ব অর্থনীতিরও প্রবৃদ্ধি কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ালেও সতর্কতা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নিয়ে এসেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার উচ্চমূল্যের চাপও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইএমএফ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.২ শতাংশে নিয়ে এসেছে
- 📌 মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, আগের পূর্বাভাস ছিল ৬ শতাংশ
- 📌 বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে পৌঁছবে, যা ২০২৫ সালের ৩.৫ শতাংশের তুলনায় কম
- 📌 ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি দাম বেড়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে
- 📌 আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে
- 📌 সৌদি আরবের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে সংকুচিত হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কম
- 📌 চীনের প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস, কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল
- 📌 বিশ্বে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে
📰 বিস্তারিত
গতকাল মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। নতুন পূর্বাভাসে তা ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এপ্রিলে ৬ শতাংশ থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা তেনরেইরো বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো বিভিন্ন ধাক্কা সামলে টিকে আছে। তবে সেই সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ বেশি। এতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে আগে দক্ষতা ও ব্যয় সাশ্রয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। এখন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থা ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই বিভক্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবের মুখে থাকা মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে সংকুচিত হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। তবে যুদ্ধ শেষ হলে অঞ্চলটির অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রসারসহ বিভিন্ন কারণে উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকবে। ২০২৬ সালে এসব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।
"বিশ্ব অর্থনীতি এখনো বিভিন্ন ধাক্কা সামলে টিকে আছে। তবে সেই সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে।"
"ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চল, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিলভানা তেনরেইরো (আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ), ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা (আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.২ শতাংশ (বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি), ১০.৯ শতাংশ (মূল্যস্ফীতি), ৩.১ শতাংশ (বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি), ৩.৩ শতাংশ (সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংকুচন), ৪.৭ শতাংশ (বিশ্বে মূল্যস্ফীতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!