📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩.২% এবং মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হবে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে ২.২%। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পূর্বাভাসের চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে মন্থর হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও সবচেয়ে বেশি। আইএমএফের মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আর বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার হতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়াও, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে ২ দশমিক ২ শতাংশে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.২% এবং মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হবে—আইএমএফের পূর্বাভাস
- 📌 আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে ২.২%—গত ৩ দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি
- 📌 গত ৪ বছরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে—বিশ্বব্যাংকের তথ্য
- 📌 দেশের অর্থনীতিতে দুর্বল ব্যাংক খাত, জ্বালানিসংকট, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা ও রাজস্ব ঘাটতি চাপ সৃষ্টি করছে
- 📌 আইএমএফের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২.২% এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ২.৯% থাকবে
- 📌 দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে খারাপ—ভারত ৭%, পাকিস্তান ৩.৫%, শ্রীলঙ্কা ৩.৭%
📰 বিস্তারিত
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এছাড়াও, মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা গত দেড় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে ২ দশমিক ২ শতাংশে। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৪ শতাংশ। কিন্তু আইএমএফের পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ বছরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এছাড়াও, দেশের প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনীতির দুর্বলতা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। দুর্বল ব্যাংক খাত, জ্বালানিসংকট, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা ও রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা কোভিডকালীন প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম। পরের দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ও ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসগুলি অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের আশা কমিয়ে দিয়েছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ; পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ; শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ; নেপালের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ; মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি আড়াই শতাংশ এবং ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
"আমরা তাদের পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চাই না। বাজেটে যে লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, সে অনুসারে কাজ চলছে।"
সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.২% (জিডিপি প্রবৃদ্ধি), ১০.৯% (মূল্যস্ফীতি), ৮০ লাখ (দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে), ২.২% (আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!