📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহার ও কর সংস্কারের পথে সরকারকে সতর্ক করেছে। তারা দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে এবং করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছে। তবে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্কতা জানিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহারের পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। সংস্থাটি করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। তবে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্কতা জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইএমএফ করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ দেখিয়েছে।
- 📌 ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহারের পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
- 📌 মরক্কো ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।
- 📌 নাইজেরিয়ার মতো দেশে ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর ৪২ শতাংশ রাজস্ব ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
- 📌 আর্জেন্টিনা ও মিশরর মতো দেশগুলো কর অব্যাহতি কমানোর মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে।
📰 বিস্তারিত
বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ঋণের চাপ সামাল দিতে করব্যবস্থার সংস্কার ও অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানোর তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি দাবি করেছে, ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, অনেক সময় ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর প্রশাসন সহজ ও কার্যকর করা গেলে কর আদায়ের ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর পরিপালন সহজ করা হলে ব্যবসা সমপ্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। মিশরের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার সংস্কার ও কর অব্যাহতি কমানোর উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার, জ্বালানি কর ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ এবং ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি বেশি থাকা দেশগুলোর জন্য করের আওতা বাড়ানো এবং অকার্যকর কর সুবিধা পর্যালোচনা করা জরুরি। তবে এসব পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে।
"ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ অনেক সময় দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। ফলে সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড (আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রদ্রিগো ভালদেস, এরা দাবলা-নরিস, ডেভিডে ফুরচেরি, থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ (নাইজেরিয়ার রাজস্ব ঋণ পরিশোধে ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!