📌 মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০২.৩০ ডলারে উঠে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলছে
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃহস্পতিবার আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বাড়ার ফলে সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০২.৩০ ডলারে উঠে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় ব্যারেল প্রতি ১০২.৩০ ডলারে উঠে, যা ২.০৬ ডলার বেড়েছে।
- 📌 ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অষ্টম মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে গেছে ৩২ লাখ ব্যারেল, যা তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
- 📌 আইইএর সিদ্ধান্ত কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিকল্পনা হলেও বাজারে স্বস্তি ফিরেনি।
- 📌 কাতারের উত্তরে এক তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মানুষের প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের তথ্যানুসারে, বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বাড়ার কারণে সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০২.৩০ ডলারে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়েছে ১.৫১ ডলার, যা প্রতি ব্যারেলে ৮৯.৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হতো। সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ হামলা বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে এই প্রণালিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে এক তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, এই হামলায় কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস বলেছেন, অতীতে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ কমে গেছে এমন নজির আছে। তবে এবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ না থাকায় উৎপাদক দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।
"কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয় না। এটি শুধুমাত্র সাময়িকভাবে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে"
যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যেও তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে। গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড্যানিয়েল হাইনস (এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২.৩০ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের দাম), ২.০৬ ডলার (বৃদ্ধি), ৮৯.৭৯ ডলার (ডব্লিউটিআই দাম), ৩২ লাখ ব্যারেল (মজুত কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!