📌 বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তর করে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগ ৪.৫% এবং রপ্তানি ২.৪% বৃদ্ধি সম্ভব। এতে প্রকৃত মজুরি, ব্যক্তিগত ভোগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে মনে করা হয়। রাজধানীর একটি নীতিসংলাপে এই বিষয় আলোচিত হয়
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ বিনিয়োগের দিকে ধাবিত করলে ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট বিনিয়োগ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রপ্তানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও প্রকৃত মজুরি ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যক্তিগত ভোগ ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন পথ থেকে সরে আসা এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০৩৫ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক রূপান্তর করে বিনিয়োগ ৪.৫% এবং রপ্তানি ২.৪% বৃদ্ধি সম্ভব বলে মনে করা হয়।
- 📌 প্রকৃত মজুরি ১.৫%, ব্যক্তিগত ভোগ ১.৩% এবং কর্মসংস্থান ১.১% বৃদ্ধি পেতে পারে।
- 📌 বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনজনিত কারণে ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে ১৭.৬% ক্ষতি হয়েছিল।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
- 📌 নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে সরকারি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ মঙ্গলবার ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি কি বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে পারবে?’ শীর্ষক একটি নীতিসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
মূল প্রবন্ধে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রচলিত উন্নয়নধারা, মাঝারি মাত্রার জ্বালানি রূপান্তর এবং অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তর ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের তিনটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তরের পরিস্থিতিতে প্রচলিত উন্নয়নধারার তুলনায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বেশি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লাসংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবেশদূষণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও সিসাদূষণের কারণে ২০১৯ সালে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল জিডিপির ১৭.৬ শতাংশ। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সালের মধ্যে আনুমানিক ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এই অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, গ্রিন বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
"জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ প্রশমনসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে রাখা হয়, আর আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য মাত্র ৩৫ শতাংশ অভিযোজন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু এসব অর্থও যথাযথভাবে পাওয়া যায় না।"
— সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকার এটাকে খুব প্রাধান্য দিচ্ছে। আর অর্থায়নের জন্য সবুজ বা নীল বন্ড এবং সুকুকের চিন্তা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের জন্য স্থানের অভাব হবে না। নদীর পাড়ে, গ্রামে টিনের চালে স্থাপন করা যাবে। তবে এটি সব সময়ই ব্যয়বহুল। তাই বলে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এটা ভবিষ্যৎ অস্তিস্তের লড়াই।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা আরেকটু গভীরে গিয়ে দেখা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের জনবহুল দেশে জায়গার সমস্যা রয়েছে। আর সরকারি নীতির মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। হাইড্রোপাওয়ারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করে দেখা দরকার।
সমাপনী বক্তব্যে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা একধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জ্বালানি রূপান্তর এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সেলিম রায়হান, মনজুর হোসেন, ফাহমিদা খাতুন, মো. ফজলুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪.৫%, ২.৪%, ১.৫%, ১.৩%, ১.১%, ১৭.৬%, ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!