📌 জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানিসংকট সমাধানের লক্ষ্য রেখেছে সরকার
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫০টি গ্যাসকূপ খনন**: দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
- 📌 **এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি**: এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।
- 📌 **পেট্রোবাংলার কারিগরি সক্ষমতা জোরদার**: গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পেট্রোবাংলার প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো**: সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে কর-সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 **সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সুবিধা**: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
- 📌 **২০৩০ সালের লক্ষ্য**: সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট সমাধান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
📰 বিস্তারিত
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং সরবরাহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে কর-সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ বিভিন্ন সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
সরকারি অফিস-আদালতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি অব্যবহৃত সরকারি ও অকৃষি জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
"দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানিসংকট সমাধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট সমাধান করা। তিনি জানান, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (জাতীয় পর্যায়ে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০টি গ্যাসকূপ, ১০ টাকা ৫০ পয়সা (সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!