📌 বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ ও জ্বালানি আমদানির জন্য ৩৩০ কোটি ডলার অনমনীয় ঋণ অনুমোদন করেছে। এডিবি থেকে ২০ কোটি ডলার ও আইটিএফসি থেকে ৩১০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হবে কঠিন শর্তে। ঋণটি বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে
বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির জন্য ৩৩০ কোটি ডলারের কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন করেছে। এই ঋণের অর্থ দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা (১২৩ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে)। গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অনমনীয় ঋণ–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) ৪৬তম সভায় এই ঋণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৩০ কোটি ডলার ঋণ** অনুমোদিত: বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্প ও জ্বালানি আমদানির জন্য
- 📌 **২০ কোটি ডলার** এডিবি থেকে: পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য
- 📌 **৩১০ কোটি ডলার** আইটিএফসি থেকে: তেল ও এলএনজি আমদানির জন্য (২৫০ কোটি তেল, ৬০ কোটি এলএনজি)
- 📌 **কঠিন শর্তের ঋণ**: গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫.৭০% (২৫% এর নিচে)
- 📌 **সুদ ও চার্জ**: ০.৫% স্প্রেড (এসওএফআর ভিত্তিক), ০.১০% ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম, ০.১৫% কমিটমেন্ট চার্জ
- 📌 **প্রকল্প সময়সীমা**: ২০২৬ অক্টোবর থেকে ২০৩১ জুলাই পর্যন্ত
- 📌 **জ্বালানি নিরাপত্তা**: ৬ মাস মেয়াদি ঋণ, সুদ ৬ মাসের টার্ম এসওএফআর + ১.৭০%
📰 বিস্তারিত
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে নেওয়া ২০ কোটি ডলার ঋণটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) পরিচালিত ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের’ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ঢাকার পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, মাটির নিচ ও ওপরে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল তদারকি প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। ফলে কারিগরি লোকসান কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। এই ঋণটি ছয় মাস মেয়াদি এবং সুদ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১.৭০ শতাংশ যোগ করে। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার সরবরাহ করবে, বাকি ২৫০ কোটি ডলার যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসারে, অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় কোনোভাবেই রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।
"অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় এটি কঠিন শর্তের বা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সচিবালয়), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩০ কোটি ডলার (মোট ঋণ), ২০ কোটি ডলার (এডিবি), ৩১০ কোটি ডলার (আইটিএফসি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!