📌 মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারো বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বেড়ে ১০২.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রশাসন ইউরোপকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত খুলতে বলেছে
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারো বেড়েছে। শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ০০:২২ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বা ০.২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২.৬০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩.১৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বেড়ে ১০২.৬০ ডলারে পৌঁছেছে
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও ১০,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছেন
- 📌 চীন অক্টোবরের শুরুতে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে
- 📌 মার্কিন প্রশাসন ইউরোপকে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) ব্যারেল জরুরি ডিজেল মজুত খুলতে বলেছে
- 📌 পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তৃতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা (ইরান) হয় অত্যন্ত ন্যায্য একটি চুক্তিতে সই করবে, না হয় তাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীন সরকার জাতীয় এক সপ্তাহের ছুটি বা ‘গোল্ডেন উইক’ শুরু করার সময় দেশীয় বড় শোধনাগারগুলোকে হংকং ও ম্যাকাও ব্যতীত অন্য কোথাও তেল ও ডিজেল রপ্তানির নতুন কোটা জারি করেনি। চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেইজিং জ্বালানি রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে জুলাই মাসে তা কিছুটা শিথিল করা হলেও বর্তমানে প্রতি মাস ভিত্তিতে ডিজেল, পেট্রল ও জেট ফুয়েল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
৭ অক্টোবর উইকেন্ড শেষ হওয়ার পর চীন পুনরায় রপ্তানি অনুমোদন দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর ওপর জরুরি রিজার্ভ ব্যবহারের জোর চাপ সৃষ্টি করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) ব্যারেল জরুরি ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে মার্কিন ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইইউভুক্ত দেশগুলোর কাছে প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টন জরুরি অপরিশোধিত তেল ও ফুয়েল মজুত রয়েছে।
"চলতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানো এবং চীনের সাময়িক রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।"
— কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার (ব্রেন্ট ক্রুড, ডব্লিউটিআই), পারস্য উপসাগর, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টিম ওয়াটারার (কেসিএম ট্রেডের বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ সেন্ট (ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধি), ১০২.৬০ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান দাম), ১০,০০০ (মার্কিন সেনা), ১২ কোটি ব্যারেল (ইউরোপকে জরুরি ডিজেল মজুত খুলতে বলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!