📌 সরকার তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি মাসেই বোর্ড গঠিত হতে পারে। শ্রম মন্ত্রণালয় জানায়, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হবে। ২০২৩ সালের মজুরি বৃদ্ধির পর এখন তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে
সরকার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি মাসেই এই বোর্ড গঠিত হতে পারে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়
- 📌 মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের পর চলতি মাসেই বোর্ড গঠিত হতে পারে
- 📌 ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সর্বশেষ মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর
- 📌 ২০২৩ সালে মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল
- 📌 মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে সরকার তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সাথে বৈঠক হয়। বৈঠকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের পর চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।
সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হয়। আগামী নভেম্বর মাসে মজুরি ঘোষণার তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে।
শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর, নাকি আগে থেকে তিন বছর সময় গণনা করা হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, আইন পাসের পর থেকেই সময় গণনা হওয়া উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে সম্ভব না হলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় যাবে। সেখানেও না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে।
২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। এই মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়েছিল।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। একই সঙ্গে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানার রয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বর্তমান মজুরিকাঠামোতে বহু কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে মালিকপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে।
"তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সচিবালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, মাহমুদ হাসান খান, মোহাম্মদ হাতেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার টাকা (পুরাতন মজুরি), ১২ হাজার ৫০০ টাকা (নতুন মজুরি), ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ (মজুরি বৃদ্ধির হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!