📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কাঁচামাল আমদানির শর্ত সহজ করেছে। নিট কাপড় আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন শর্ত শিথিল করা হয়েছে। নতুন আদেশে কৃত্রিম তন্তুসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কাঁচামাল আমদানির শর্ত সহজ করে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ সংশোধন করেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে নিট কাপড় আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কার্যক্রমে সহজতা আসবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নিট কাপড় আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া**: ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’-এ নিট ফেব্রিক আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন নিটওয়্যার রপ্তানিকারকরা আগের মতো নিট ফেব্রিক আমদানি করতে পারবেন।
- 📌 **গ্রে কাপড় ছাড়া অন্যান্য কাপড়ের আমদানি সুবিধা**: আগের নিয়মে গ্রে কাপড় ছাড়া অন্য কাপড় কেবল ১৮ দশমিক ২৯ মিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের থানে আমদানি করা যেত। এখন কৃত্রিম তন্তুর সীমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরির কাপড় আকৃতি ও আকার নির্বিশেষে আমদানি করা যাবে।
- 📌 **বিনামূল্যে আমদানি তালিকায় নতুন যুক্ত পণ্য**: কটন, ম্যান-মেড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিক্সের পাশাপাশি ‘অন্যান্য উপকরণ’ যুক্ত করা হয়েছে বিনামূল্যে আমদানির তালিকায়।
- 📌 **হোসিয়ারি ও নিটেড পোশাকের সুতা আমদানি শর্ত তুলে নেওয়া**: নতুন বিধানে হোসিয়ারি ও নিটেড পোশাকের জন্য সুতা ও নিটেড কাপড় আমদানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 **বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর দাবি পূরণ**: রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সংশোধনী এনেছে সরকার। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এই বিষয়ে দাবি জানিয়েছিল।
- 📌 **বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ**: নতুন নীতিতে বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ, ব্যাংকিং জটিলতা কমানো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ সংশোধন করে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কাঁচামাল আমদানির শর্ত সহজ করেছে। মূল আদেশের ২৫ অনুচ্ছেদের ১২ উপ-অনুচ্ছেদে নিট ফেব্রিক আমদানি নিষিদ্ধ ছিল। তবে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এই বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিল। সংশোধিত আদেশে পোশাক খাতের আমদানিতে আরও কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। আগের নিয়মে গ্রে কাপড় ছাড়া অন্য কাপড় কেবল ১৮ দশমিক ২৯ মিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের থানে আমদানি করা যেত। এখন কৃত্রিম তন্তুর সীমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরির কাপড় আকৃতি ও আকার নির্বিশেষে আমদানি করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সুপারিশ প্রয়োজন হবে।
বিনামূল্যে আমদানির (এফওসি) তালিকায় কটন, ম্যান-মেড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিক্সের পাশাপাশি ‘অন্যান্য উপকরণ’ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্যের কাঁচামালের পরিমাণ এখন ইউডি বা ইউপি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। নতুন বিধানে হোসিয়ারি ও নিটেড পোশাকের জন্য সুতা ও নিটেড কাপড় আমদানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে।
২৫ আগস্ট ঋণপত্র (এলসি) খোলার কড়াকড়ি শিথিল করে সরকার ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করেছিল। নতুন নীতিতে বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ, ব্যাংকিং জটিলতা কমানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাণিজ্যমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ (অনুচ্ছেদ), ১২ (উপ-অনুচ্ছেদ), ১৮.২৯ (মিটার), ২৫ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!