📌 বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬.১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১০.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহজনক হিসেবে দেখছেন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পোশাক খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি আয় ১০.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে
- 📌 আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৯.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- 📌 নিটওয়্যার রপ্তানি ৬.৮৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
- 📌 ওভেন পোশাক রপ্তানি ৫.১১% বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৬১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে
- 📌 জুলাই মাসে রপ্তানি ১.৯২% কমে ৩৮৮ কোটি ডলারে, আগস্টে ১৩.৯২% বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ৮.৫৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৩০৮ কোটি ডলারে
- 📌 বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বার্ষিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য টেকসই মুনাফা নিশ্চিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। এই খাতের রপ্তানি আয় এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পোশাক খাতের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার এবং ওভেন উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। নিটওয়্যার পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
মাসভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৯২ শতাংশ কম। দ্বিতীয় মাস আগস্টে রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারে দাঁড়ায়। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েজের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘মাসিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হলেও, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত মেইনটেইন করতে হবে। জ্বালানি সংকটসহ অতীতের চ্যালেঞ্জগুলো এখন আর নেই, তাই অন্যান্য সহযোগিতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, উৎপাদন খরচ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে টেকসই মুনাফা নিশ্চিত করতে হবে।’
নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, আগস্ট মাসে জ্বালানি সংকট থাকলেও সেপ্টেম্বরের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, বেশিরভাগ কারখানার সংকটের মাঝেও কেউ কেউ অতিরিক্ত রপ্তানি করার কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
"মাসিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হলেও, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত মেইনটেইন করতে হবে। জ্বালানি সংকটসহ অতীতের চ্যালেঞ্জগুলো এখন আর নেই, তাই অন্যান্য সহযোগিতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহিউদ্দিন রুবেল, ফজলে শামীম এহসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (রপ্তানি আয়), ৬.১০% (প্রবৃদ্ধি), ১৫% (বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!