📌 সরকার সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ২০ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা দাবি করেছেন, এতে কৃষি, শিল্পসহ সব খাতের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির হার আরো বেড়ে যাবে। রাইড শেয়ারিং চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের লহর উঠেছে
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকার সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ২০ টাকা করে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এতে কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ২০ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে — ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।
- 📌 ঢাকার আজিমপুর এলাকার রাইড শেয়ারিং চালক মো. আলী হোসেন বলেছেন, “তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও খরচে পোষাইতেছে না। এখন কীভাবে চলমু, সেইটা নিয়াই টেনশনে আছি।”
- 📌 অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ সব খাতেই প্রভাব পড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়লে বাজারে পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যাবে।”
- 📌 সরকারের আশ্বাস, “বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করবো, যাতে অসাধু চক্র ফায়দা লুটতে না পারে।”
- 📌 গত ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগের দফায় ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আলী হোসেন করোনা মহামারিতে চাকরি হারানোর পর রাইড শেয়ারিং শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, “এখন যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও খরচে পোষাইতেছে না। এখন কীভাবে চলমু, সেইটা নিয়াই টেনশনে আছি।”
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ সব খাতেই প্রভাব পড়বে। উৎপাদন পর্যায়ে খরচ বাড়লে বাজারে পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যাবে। এতে চাল, ডাল থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব খাতের পণ্যের দাম বাড়বে। একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে, তেমনি রপ্তানিক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।”
বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, “সরকার তো খালি জিনিসের দামই বাড়ায়; আমরা কীভাবে বাঁচবো, সে কথা সরকার ভাবে? সরকারি চাকরিজীবীদের না হয় বেতন বাড়ছে, আমাদের বেতন কে বাড়াবে?”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেছেন, “বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আমরা জোরদার করবো, যাতে করে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র ফায়দা লুটতে না পারে।”
"কিন্তু এইখানেও অবস্থা ভালো না। একদিকে যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আবার তেলের দাম বাড়তির কারণে আমাদেরও খরচে পোষাইতেছে না। এখন কীভাবে চলমু, সেইটা নিয়াই টেনশনে আছি,"
"জ্বালানি তেল এমন একটি জিনিস, যেটার দাম বেড়ে গেলে চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে সেটার প্রভাব কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ সবখাতেই পড়ে। উৎপাদন পর্যায়ে খরচ বাড়লে বাজারে পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যাবে,"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আজিমপুর এলাকা), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আলী হোসেন (রাইড শেয়ারিং চালক), ড. ফাহমিদা খাতুন (অর্থনীতিবিদ), আরিফুল ইসলাম (বেসরকারি চাকরিজীবী), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ টাকা (প্রতি লিটার দাম বৃদ্ধি), ১৩৫ টাকা (ডিজেল), ১৬০ টাকা (পেট্রোল), ১৬৫ টাকা (অকটেন), ১৫৫ টাকা (কেরোসিন), ৫ মিনিট (পড়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!