📌 জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পাচার রোধে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের ৭০% জ্বালানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে এবং বর্তমান সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের পাচার বন্ধে এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্তের কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দাম কম থাকায় পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাচার বন্ধে জ্বালানি দাম সমন্বয়: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পাচার ঠেকাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
- 📌 ৭০% জ্বালানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে: বাংলাদেশের ৭০% জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে জটিল করেছে।
- 📌 ডিজেলের নতুন দাম ১৩৫ টাকা: সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা করা হয়েছে।
- 📌 বিপিসির ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান: দাম বাড়ানোর আগেও বিপিসি পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছিল, তবে এতে প্রতিষ্ঠানটির ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
- 📌 সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে দাম সমন্বয়: প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশি মুদ্রায় জ্বালানি তেল কিনতে হয়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০৫ টাকা নির্ধারণ করতে হতো। তবে সরকার সাধারণ মানুষ, গণপরিবহন ও সেচনির্ভর কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিয়ে ডিজেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে পাচার ঠেকানো এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নজিরবিহীন এবং কোভিড-১৯ মহামারি বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়ে জটিল।
"একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, এ সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের কষ্ট হবে। সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর দাম সমন্বয়ের প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩৫ টাকা (ডিজেল), ১৬৫ টাকা (অকটেন), ১৬০ টাকা (পেট্রোল), ১৫৫ টাকা (কেরোসিন), ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা (বিপিসির লোকসান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!