📌 খুলনার কয়রা উপজেলার ঊর্মিলা মণ্ডল (৩৬) একসময় চিংড়ির পোনা ধরতেন। বেকার হয়ে পড়ার পর বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের সহায়তায় মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এখন তিনি নিজের ব্যবসায় থেকে মাসে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন এবং উপকূলীয় নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছেন
খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন নয়ানী গ্রামের গৃহবধূ ঊর্মিলা মণ্ডল (৩৬) একসময় চিংড়ির পোনা ধরতেন। কিন্তু বেকার হয়ে পড়ার পর তিনি নিজের হাত দিয়ে রঙিন মোমবাতি তৈরির ব্যবসায়ে সাফল্যের গল্প গড়েছেন। বর্তমানে তিনি মাসে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন এবং উপকূলীয় এলাকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার কয়রা উপজেলার ঊর্মিলা মণ্ডল (৩৬) বেকার হয়ে পড়ার পর বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের সহায়তায় মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নেন এবং নিজের ব্যবসায়ে সাফল্য পান
- 📌 তিনি প্রতি কেজি মোমের কাঁচামালে ৬০-৭০টি মোমবাতি তৈরি করেন, প্রতি পিসে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে মাসে ১২ হাজার টাকা আয় করেন
- 📌 একসময় চিংড়ির পোনা ধরার কাজে বুকসমান কাদা ও লোনাপানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টানতেন, এখন মোমবাতি তৈরির মাধ্যমে নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্য নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছেন
- 📌 উপকূলীয় এলাকায় নারীদের কাজের সুযোগ খুব সীমিত, ঊর্মিলা বলেন: "প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে"
📰 বিস্তারিত
খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন নয়ানী গ্রামের ঊর্মিলা মণ্ডল (৩৬) বাড়ির বারান্দায় মোমবাতি তৈরির কাজে ব্যস্ত। তার স্বামী মিহির কান্তি মৃধা পটুয়াখালীতে কীটনাশক বিক্রির ব্যবসায় জড়িত। ঊর্মিলা বলেন, "আমি খুলনা বিএল কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছি। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু নানা কারণে তা পূরণ হয়নি। বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকতে চাইনি। তাই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের সহায়তায় মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নিলাম।"
মোমবাতি তৈরির জন্য ঊর্মিলা সয়া ওয়াক্স, প্যারাফিন ওয়াক্স ও প্রাকৃতিক মৌ মোম ব্যবহার করেন। তিনি স্বল্প আঁচে মোম গলিয়ে নির্দিষ্ট অনুপাতে স্টেরিক অ্যাসিড, রং ও সুগন্ধি মেশান। থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে মিশ্রণ ঢালা হয় ছাঁচে। একটি মোমবাতি পুরোপুরি জমতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। প্রতি কেজি মোমের কাঁচামালের দাম প্রায় ২৮০ টাকা, এতে ৬০-৭০টি উন্নত মানের মোমবাতি তৈরি করা যায়।
সাম্প্রতিককালে একটি বেসরকারি সংস্থা ঊর্মিলার কাছ থেকে ২০০টি মোমবাতি কিনেছে। প্রতি পিসে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি ১২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তিনি বলেন, "আমি আগে নিয়মিত এই জাল নিয়ে নদীতে নামতাম চিংড়ির পোনা ধরতে। বুকসমান কাদা আর লোনাপানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টানতে হতো। এখন মোমবাতির কাজ শুরু করার পর একটু একটু করে ঘরটা বদলাতে পারছি। এর মাধ্যমে সংসারের অভাব ঘোচানোর চেষ্টা করছি।"
ঊর্মিলার কাজের প্রশংসা করেন প্রতিবেশীরা। লক্ষ্মী মণ্ডল নামের একজন প্রতিবেশী বলেন, "আমরা এলাকায় এভাবে মোমবাতি তৈরি আগে দেখিনি। পূজা-পার্বণে এখন ঊর্মিলা বৌদির কাছ থেকেই মোমবাতি কিনি।" স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মণি শঙ্কর রায় বলেন, "উপকূলীয় এলাকায় নারীদের কাজের সুযোগ খুব সীমিত। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ঊর্মিলার মতো উদ্যোগ থেকে আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।"
"আমি আগে নিয়মিত এই জাল নিয়ে নদীতে নামতাম চিংড়ির পোনা ধরতে। বুকসমান কাদা আর লোনাপানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টানতে হতো। এখন মোমবাতির কাজ শুরু করার পর একটু একটু করে ঘরটা বদলাতে পারছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, কয়রা উপজেলা, সুন্দরবন-সংলগ্ন নয়ানী গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঊর্মিলা মণ্ডল (৩৬), মিহির কান্তি মৃধা, লক্ষ্মী মণ্ডল, মণি শঙ্কর রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বছর বয়স, ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ২৮০ টাকা, ৬০-৭০টি মোমবাতি, ২০০টি মোমবাতি, ৬০ টাকা প্রতি পিস, ১২ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!