📌 কুড়িগ্রামের বেলগাছায় বেড়াতে কমলার গাছ দেখে শুরু করেছিলেন আবু রায়হান ফারুক। এক গাছ থেকে সাড়ে সাত একর বাগান গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে বছরে ৩২ লাখ টাকার ফল ও চারা বিক্রি করে আত্মকর্মসংস্থান করছেন ফারুক
কুড়িগ্রামের বেলগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু রায়হান ফারুক এক গাছ থেকে শুরু করে সাড়ে সাত একর সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি বছরে ৩২ লাখ টাকার ফল ও চারা বিক্রি করে আত্মকর্মসংস্থান করছেন। ফারুকের খামার ‘কাজী এগ্রো ফুড রিসোর্ট অ্যান্ড ইকোপার্ক’ নামে পরিচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বেড়াতে কমলার গাছ দেখে শুরু করেছিলেন ফারুকের কৃষি জীবন, বর্তমানে সাড়ে সাত একর বাগান রয়েছে তার
- 📌 ২০১৮ সালে বগুড়ায় বেড়াতে কমলার গাছ দেখে কৌতূহল থেকে একটি চারা কিনে লাগান ফারুক
- 📌 প্রথম বাণিজ্যিক ফলনেই বিক্রি হয় ৫০ হাজার টাকার কমলা, বর্তমানে বছরে ৩২ লাখ টাকার ফল-চারা বিক্রি
- 📌 দেশের প্রথম বাণিজ্যিক আঙুরবাগান গড়ে তোলেন ফারুক, বর্তমানে ৩ লাখ টাকার আঙুর ও ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি
- 📌 সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থায় কমলা, আঙুর, আম, সুপারি, মাল্টা ও আপেলের চাষ করছেন ফারুক
- 📌 নার্সারি থেকে ৭ অক্টোবর ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে ডাল সংগ্রহের জন্য এসেছিলেন নার্সারি মালিক
📰 বিস্তারিত
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই আত্মকর্মসংস্থানের পথ হিসেবে বেছে নেন আবু রায়হান ফারুক। বেড়াতে গিয়ে বগুড়ায় একটি কমলার গাছ দেখে কৌতূহল থেকে তিনি কুড়িগ্রামের একটি নার্সারি থেকে একটি চারা কিনে বাড়ির আঙিনায় লাগান। পরের বছর সেই গাছে ফল ধরলে পরিবারের সবাই মুগ্ধ হন। সেই থেকে শুরু হয় ফারুকের কৃষি জীবন।
ফারুক এক বিঘা জমিতে শতাধিক কমলার চারা লাগান। প্রথম বাণিজ্যিক ফলনেই বিক্রি হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকার কমলা। এরপর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাতে পারেননি। বর্তমানে সাড়ে সাত একর জমিতে গড়ে উঠেছে ‘কাজী এগ্রো ফুড রিসোর্ট অ্যান্ড ইকোপার্ক’। খামারে আছে কমলা, মাল্টা, আম, আঙুর, ড্রাগন, আপেল, সুপারি সহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলের গাছ।
ফারুক নিজেই ডাল কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে নার্সারি গড়ে তোলেন। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে নার্সারি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারতেও চারা বিক্রি হয়। ফারুক গত বছর ৩২ লাখ টাকার ফল ও চারা বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ১২ লাখ টাকার আঙুরের চারা, ৩ লাখ টাকার আঙুর, ৩ লাখ টাকার কমলা ও মাল্টার চারা, ৫ লাখ টাকার আম ও লটকনের চারা, এবং ৪ লাখ টাকার সুপারি ও সুপারির চারা বিক্রি হয়েছে।
ফারুক আগ্রহী হন আঙুর চাষে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ির ছাদবাগানে বাইকুনুর জাতের আঙুর দেখে তিনি আগ্রহী হন। ২০২১ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা ২০০টি আঙুরের চারা দিয়ে এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন। এক বছর পর গাছে ফল আসে। নিজেই কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে তিনি আরও দুই বিঘা জমিতে আঙুর চাষ বাড়ান। ফারুক দাবি করেন, তাঁর এই আঙুরবাগানই দেশের প্রথম বাণিজ্যিক আঙুরবাগান। বর্তমানে জাত ও আকারভেদে আঙুরের চারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
সমন্বিত খামারব্যবস্থায় ফারুক একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করেন। দুই বিঘায় কমলা, দুই বিঘায় আঙুর এবং দুই বিঘায় আমের বাগান রয়েছে। এছাড়া সুপারি, মাল্টা, আপেল ও আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন তিনি। আঙুরের মাচার নিচে চাষ করছেন আদা। খামারে রয়েছে কাটিমন ও বারি-৪ জাতের প্রায় ৫০০টি আমগাছ। প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেন তিনি। প্রায় চার হাজার সুপারি গাছ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়।
"উদ্ভিদ বিজ্ঞানে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিয়েছি। মাশা আল্লাহ, কৃষি আমাকে চাহিদার তুলনায় অধিক দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেলগাছা ইউনিয়ন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু রায়হান ফারুক (কাজী মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ একর বাগান, ৩২ লাখ টাকা আয়, ৫০ হাজার টাকা প্রথম বিক্রি, ২০০টি আঙুরের চারা, ৩ লাখ টাকা আঙুর বিক্রি, ১০ লাখ টাকা আঙুরের চারা বিক্রি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!