📌 বরিশালের বাবুগঞ্জের সুমন আহমেদ বাবার বর্গাচাষির জমি কিনে গড়ে তুলেছেন ১৭৩ শতক জমির সমন্বিত কৃষি খামার। বিদেশে রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পেঁপে, চারা, মাছ ও সবজি চাষের মাধ্যমে বছরে কোটি টাকার ব্যবসা করছেন
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের সুমন আহমেদের জীবনের গল্প একটা আশাবাদী কাহিনী। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু বাবার বর্গাচাষির জমি কিনে গড়ে তুলেছেন ১৭৩ শতক জমির সমন্বিত কৃষি খামার। বিদেশে রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি কৃষিকে ব্যবসায় রূপ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭২ বছর বয়সে স্বপ্ন পূরণ**: বাবা বর্গাচাষি ছিলেন, সেই জমি কিনে সুমন আহমেদ গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার।
- 📌 **১৭৩ শতক জমিতে ১ কোটি টাকার ব্যবসা**: পেঁপে, চারা, মাছ ও সবজি চাষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে আয় হবে কোটি টাকার বেশি।
- 📌 **২০ লাখ চারা উৎপাদনের লক্ষ্য**: প্রতিটি চারা বিক্রি করে ২ টাকা লাভ, বীজের দাম কেজিপ্রতি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
- 📌 **বিদেশে অভিজ্ঞতা থেকে কৃষি ব্যবসা**: জার্মানি ও চীনের কৃষি খামার দেখে সুমন ভারতীয় শাহি ও কাশ্মীরি পেঁপের চারা উৎপাদনে মনোনিবেশ করছেন।
- 📌 **সফলতা থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব**: দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা আসেন চারা কিনতে এবং চাষের কৌশল শিখতে।
📰 বিস্তারিত
সুমন আহমেদের জীবনের শুরু ছিল কঠিন। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা এগোয়নি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঢাকায় পাড়ি জমান। কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ, কখনো শ্রমিক, আবার কখনো রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮২ সালে রংমিস্ত্রি হিসেবে কুয়েতে হুন্দাই কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান। পরে কোম্পানির কাজেই কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যান। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। বিদেশে গিয়ে কৃষিকে নতুন চোখে দেখতে শুরু করেন সুমন। জার্মানি ও চীনের কৃষি খামার দেখে বুঝতে পারেন কৃষি কেবল জীবিকা নয়, লাভজনক ব্যবসাও হতে পারে।
বাবার বর্গাচাষির জমি কিনে সুমন আহমেদ গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি খামার। বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ১২৩ শতক জমি কিনেন বাড়ির পাশে এবং ৫০ শতক জমি দূরে। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে এসব জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ার পরিকল্পনা করেন। পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন এবং পুকুরের পাশে পেঁপের চারা লাগান। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগ বড় খামারে রূপ নেয়। এখন দুটি খামারের মোট আয়তন ১৭৩ শতক। একটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পেঁপেগাছ এবং তিনটি পুকুর রয়েছে। অন্য খামারে আরও ৪০০ পেঁপেগাছ।
সুমন আহমেদের কৃষি উদ্যোগের বড় সম্ভাবনা এখন চারা উৎপাদনে। এ বছর প্রায় ২০ লাখ পেঁপের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন। এরই মধ্যে ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সাড়ে চার লাখ চারা তৈরি করেছেন। প্রতিটি চারা বিক্রি করছেন ৪০ টাকা করে। ভারত থেকে সংগ্রহ করা পেঁপের বীজের দাম কেজিপ্রতি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সুমন জানান, এক কেজি বীজে ২১ হাজার চারা তৈরি করা যায়। প্রতিটি চারা বিক্রি করে তাঁর দুই টাকা লাভ থাকে।
সুমনের খামারের আয়ও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০২৩ সালে আয় হয়েছিল ৬ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ১৫ লাখ এবং ২০২৫ সালে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। চলতি বছর পেঁপে, সবজি, মাছ ও চারা বিক্রি করে আয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু নিজের জীবিকা নিশ্চিত করতে চাইনি, অন্যদেরও কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পথ দেখাতে চাই।”
"আমি বাবার বর্গাচাষির জমি কিনে গড়ে তুলেছি এই খামার। আমার স্বপ্ন ছিল একদিন নিজের জমির কৃষক হবো। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা, চাঁদপাশা ইউনিয়ন, বায়লাখালী গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৩ শতক জমি, ১ কোটি টাকা আয় (২০২৬), ২০ লাখ চারা উৎপাদন লক্ষ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!