📌 বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ ছাড়ের হার ৬১% কমে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরির কারণে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে। জুলাই-আগস্টে ঋণ শোধের চাপ ৪.৮% বেড়েছে
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ ছাড়ের হার ৬১% কমে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিদেশি সহায়তার প্রকল্পে মাত্র ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ডলার কম। এই কমার প্রধান কারণ হলো প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬১% কমে গেছে ঋণছাড়: জুলাই-আগস্টে বিদেশি সহায়তার প্রকল্পে মাত্র ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭৫ কোটি ৭ লাখ ডলার।
- 📌 ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে: নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার কম।
- 📌 ঋণ শোধের চাপ বেড়েছে: জুলাই-আগস্টে মূল ঋণ ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৪.৮% বেশি।
- 📌 প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি: প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর অক্ষমতা ও ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরির কারণে নতুন ঋণ ছাড়ের সুযোগ কমে গেছে।
- 📌 অনুদান প্রতিশ্রুতি বেড়েছে: অনুদানের প্রতিশ্রুতি ৭ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ ডলারে।
📰 বিস্তারিত
দেশীয় অর্থের ঘাটতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধীরগতি ও ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরির কারণে অর্থছাড়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জুলাই-আগস্টের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ঋণ হিসেবে ছাড় হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অনুদানও কমেছে—৩৯ লাখ ১০ হাজার ডলার থেকে নেমে এসেছে ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলারে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরির কারণে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিও কমে গেছে। জুলাই-আগস্টে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণের প্রতিশ্রুতি ১৭ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার থেকে কমে হয়েছে ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। অন্যদিকে, পুরোনো ঋণের শোধের চাপ বাড়ছে। জুলাই-আগস্টে মূল ঋণ ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৪.৮% বেশি।
এই সময়ে ঋণ ছাড়ের মধ্যে এডিবি দিয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, আইডিএ ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, জাপান ৩ কোটি ৯ লাখ ডলার, ভারত ৩ কোটি ৩ লাখ ডলার এবং রাশিয়া ২ কোটি ৭ লাখ ডলার। অন্যান্য উৎস থেকে এসেছে মাত্র ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, এআইআইবি ও চীন থেকে কোনো অর্থছাড় হয়নি।
"কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু বা অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের সুযোগও তৈরি হয় না। জমি অধিগ্রহণ, নকশা, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ঋণদাতার শর্ত পূরণে দেরি হলে অর্থছাড়ও পিছিয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১% (ঋণছাড়ের হ্রাস), ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার (ছাড়কৃত অর্থ), ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার (শোধকৃত ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!