📌 চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ৪৫ কোটি ডলার কমে ২৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে ৬৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৩ কোটি ডলার বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদন এ তথ্য প্রকাশ করেছে
চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) শুরুতেই বৈদেশিক অর্থায়নে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুলাই-আগস্টে মোট ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে — গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার কম
- 📌 নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে — গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার কম
- 📌 ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার — যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি
- 📌 মূল অর্থ পরিশোধে ব্যয় ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, সুদ পরিশোধে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার
- 📌 খাদ্য সহায়তা বাবদ কোনো অর্থ ছাড় হয়নি জুলাই-আগস্টে
📰 বিস্তারিত
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে মোট ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় হয়েছে। এর মধ্যে অনুদান মাত্র ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২৯ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৭০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড়ের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার কমেছে।
নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই ও আগস্টে মোট ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার অনুদান এবং ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার প্রকল্প ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতিও কিছুটা কমেছে।
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ মোট ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকার সমান। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি ব্যয় হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে পরিশোধ করা বৈদেশিক ঋণের মধ্যে মূল অর্থ ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকার সমান। অন্যদিকে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়েছে।
"অর্থবছরের শুরুতে নতুন বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমার বিপরীতে আগের ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে। এতে নতুন অর্থপ্রবাহের গতি কমার পাশাপাশি পুরোনো ঋণের দায় মেটাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থ মন্ত্রণালয় (ইআরডি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার (সহায়তা ছাড়), ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার (ঋণ পরিশোধ), ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার (বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!