📌 চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা ফুডপান্ডার অতিরিক্ত চার্জ, জটিল হিসাব ও দীর্ঘদিন টাকা বিলম্বের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, কমিশনের বাইরে অতিরিক্ত চার্জ বাতিল করতে হবে এবং অর্ডার বাতিলের দায় রেস্তোরাঁর নাও থাকলে খাবারের খরচ বহন করতে হবে
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা ফুডপান্ডা প্ল্যাটফর্মের অতিরিক্ত চার্জ, অস্বচ্ছ হিসাব ও দীর্ঘদিন টাকা বিলম্বের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেছেন, ফুডপান্ডার একতরফা নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, বিক্রির টাকা পেতে ১৩ দিন বা তার বেশি সময় লাগছে, যা ব্যবসার চলতি মূলধনের সংকট সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন, অর্ডার বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- 📌 রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরে অপেক্ষার মাশুল, পেমেন্ট চার্জ, ভ্যাট ও ট্যাব ফি সহ বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হয়।
- 📌 মাস শেষে ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব জটিল এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় মালিকদের আয়-ব্যয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- 📌 অর্ডার বাতিলের দায় রেস্তোরাঁর না থাকলেও খাবারের খরচ লোকসানে পরিণত হয়। রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধের দাবি করা হয়েছে।
- 📌 রেস্তোরাঁ মালিকরা দাবি করেছেন, সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং ফুডির মতো দেশীয় প্ল্যাটফর্মের নীতিকে অনুসরণ করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ এবং সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক বলেছেন, তারা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতির কারণে মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরে অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, ভ্যাট, ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কাগজে-কলমে বিক্রির পরিমাণ ভালো দেখালেও সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে সামান্য অর্থ। এসব চার্জের বিস্তারিত হিসাবও সহজে বোঝা যায় না বলে দাবি করা হয়েছে।
মালিকরা আরও বলেছেন, মাস শেষে ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যে, কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ কর্তনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ফলে নিজেদের বিক্রি, কমিশন ও প্রকৃত আয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্ডার বাতিলের দায় রেস্তোরাঁর না থাকলেও খাবারের খরচ লোকসানে পরিণত হয়। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। ফলে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে। মালিকরা দাবি করেছেন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ করতে হবে এবং গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁর বক্তব্য শোনা দরকার।
"আমরা প্রযুক্তির বিরোধী নন, কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিক্রির টাকা দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় চলতি মূলধনের সংকট তৈরি হয়। ফলে বিক্রি বাড়ার সুফল আমরা পাচ্ছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ (সভাপতি), মঞ্জুরুল হক (সাধারণ সম্পাদক), চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ দিন (টাকা বিলম্ব), ১৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ কমিশন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!