📌 বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে থাকলেও আন্তর্জাতিক মান অর্জনে পিছিয়ে। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় স্থাপিত হয়েছে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) কেন্দ্র। এই প্রযুক্তি অল্প জায়গায় স্বাস্থ্যকর মাছ উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে
বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় গুণগতমান অর্জনে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ময়মনসিংহের তারাকান্দায় স্থাপিত হয়েছে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) কেন্দ্র। নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় নির্মিত এই কেন্দ্রটি মাছ চাষের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ বিশ্বে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে
- 📌 ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মৎস্যচাষি রয়েছেন
- 📌 তারাকান্দায় স্থাপিত আরএএস কেন্দ্রে অল্প জায়গায় স্বাস্থ্যকর মাছ উৎপাদন সম্ভব
- 📌 আরএএস পদ্ধতিতে পানির ব্যবহার কমে আসে ৫ থেকে ১০ শতাংশে
- 📌 ময়মনসিংহ জেলায় বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়
📰 বিস্তারিত
গত শতাব্দীর নব্বই দশকের শুরুতে বাংলাদেশের মৎস্য খাত এক নীরব বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। সেই সময় মাছ চাষ মূলত প্রাকৃতিক জলাশয় বা সাধারণ পুকুরনির্ভর ছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনে হাকিম আলীর মৎস্য খামারের গল্প তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। এর ফলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, শম্ভুগঞ্জ, তারাকান্দাসহ পুরো অঞ্চলে মাছ চাষের বিপ্লব ঘটে।
বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মৎস্যচাষি রয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে প্রতি অর্থবছরেই মাছ উৎপাদনে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে এই জেলা। এখানে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিপুল উৎপাদন স্থানীয় মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেছে।
তবে সময়ের সাথে সাথে চ্যালেঞ্জগুলোও বদলাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নদী-নালা সংকোচন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ আমিষের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম বা আরএএস। এই প্রযুক্তিতে অল্প জায়গায় স্বাস্থ্যকর মাছ উৎপাদন সম্ভব, যেখানে বাইরের পরিবেশের কোনো প্রভাব পড়ে না।
"আরএএস পদ্ধতিতে মাছের ট্যাংকের পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধিত হয় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য হয়। ফলে পানির অপচয় একেবারে কমিয়ে ফেলা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তারাকান্দা, ময়মনসিংহ
- 👥 ব্যক্তি: হাকিম আলী
- 🔢 মৎস্যচাষির সংখ্যা: ১ লাখ ২০ হাজার
- 🔢 বার্ষিক উৎপাদন: সাড়ে ৩ লাখ টন
- 🔢 বাজারমূল্য: ১২ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!