📌 অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকট ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে ২ বছর সময় লাগবে। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা সভায় এই কথা জানান
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকটের সমাধানসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য অন্তত দুই বছরের সময় প্রয়োজন। এ সময়ের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে অর্থনীতির গতি বাড়বে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২ বছরের পরিকল্পনা**: অর্থমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে ২ বছর সময় লাগবে।
- 📌 **গ্যাস অনুসন্ধান**: বাপেক্সকে ৫০টি নতুন গ্যাস কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- 📌 **সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্য**: ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 **ব্যাংকিং খাতের অবস্থা**: ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচার ও ৭ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা চ্যালেঞ্জিং।
- 📌 **বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস**: নিউইয়র্কে ১৬ বিনিয়োগকারীর সেশনে ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাল বা পরশুই সমস্ত সমস্যার সমাধান করে ফেলব—এমন কথা বলে জনগণকে ভুল আশা দেওয়ার কোনো মানে নেই। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি খাতসহ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতির গতি বাড়বে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতির পূর্ণমাত্রায় উন্নতি হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছি। এর পাশাপাশি আগের আমলের বিপুল পরিমাণ দেনা ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত দায়ও আমাদের অবস্থাকে আরও কঠিন করেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘দেশের ব্যবসা পরিচালনার খরচ অত্যন্ত উচ্চ এবং ব্যবসা করার সহজলভ্যতা নিম্নমুখী। দীর্ঘকাল ধরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চলছে, যা শিথিল করার জন্য সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি আলাদা সংস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে—একটি নীতিমালা তৈরি করবে এবং অন্যটি তা বাস্তবায়ন করবে।’
জ্বালানিসংকটের সমাধানের জন্য সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক বা দেড় দশক ধরে আমরা নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান করিনি। এখন আমাদের প্রধান কাজ হলো গ্যাস অনুসন্ধান। বাপেক্সকে দিয়ে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং পিএসসি চুক্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। স্থলভাগ ও সমুদ্র উভয় অঞ্চলেই অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে এবং আমাদের পকেট থেকে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৭ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে। সামনে আরও কী আসবে, তা জানা নেই। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং পুঁজিবাজারে ইতিবাচক সংকেত দেখা যাচ্ছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের ১৬ বিনিয়োগকারীর সেশনে প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বাংলাদেশে ব্যাংক খাত, বন্ড মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। আলোচনা সভায় শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শু জিওং, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ ও এফআইসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক অংশ নিয়েছিলেন। আলোচনা সঞ্চালনা করেছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান।
"আমরা কাল বা পরশুই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলব—এমন কথা বলে জনগণকে ভুল আশা দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আমাদের অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল), নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বছর, ৫০টি গ্যাস কূপ, ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচার, ৭ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ, ১৬ বিনিয়োগকারী, ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার তহবিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!