📌 বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রশংসা করেছে বাংলাদেশের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দাবি করেছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য হার ৫ শতাংশ কমতে পারে। তিনি বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রশংসা করেছে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের ভূমিকা। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য হার ৫ শতাংশ কমতে পারে। তিনি বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার সুরক্ষায় ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের ভূমিকা অপরিহার্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫ শতাংশ কমবে দারিদ্র্য হার**: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, বলে দাবি করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
- 📌 **বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রশংসা**: থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনা করে তিতুমীর।
- 📌 **মূল্যস্ফীতি ও সংকটের বিরুদ্ধে সুরক্ষা**: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
- 📌 **৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নেমে গিয়েছিলেন**: অতীতের সরকারের সময়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার এই সমস্যা মোকাবেলায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করছে।
- 📌 **রাজস্ব আয় বেড়েছে ১২-১৩ শতাংশ**: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকারের অধীনে এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ।
- 📌 **৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ব্যাংকিং সংস্কারের জন্য**: ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তিতুমীর।
- 📌 **সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ত্রুটি ছিল**: অতীতের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি থাকায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনেকেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও অতীতের উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছেন।’
তিতুমীর বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন, তাদের সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া থেকে রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি।
তিতুমীর বলেন, ‘আমরা পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছি। কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি থেকে বেরিয়ে আসছি। আস্থা হয় কাজের মাধ্যমে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এছাড়াও, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অতীতে ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।’
তিতুমীর আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যাতে আরও না বাড়ে, সে জন্য সরকার জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ে যথাসম্ভব সংযত থাকার চেষ্টা করেছে। জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ও পরিবহন খাতের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।’
"মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও অতীতের উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ শতাংশ (দারিদ্র্য কমবে), ৮০ লাখ (দারিদ্র্যসীমায় নেমে গিয়েছিলেন), ১২-১৩ শতাংশ (রাজস্ব প্রবৃদ্ধি), ৪০ বিলিয়ন ডলার (ব্যাংকিং সংস্কারের জন্য প্রয়োজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!