📌 জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন ও পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট প্রকৌশলী। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও অপচয় রোধে চারটি মূল খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে আমদানি করা হয়। দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হলেও পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট প্রকৌশলী আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলেও দক্ষতার সঙ্গে তা পরিচালনা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এলএনজি হিসেবে আমদানি করা হয়
- 📌 বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কয়লা ও ফার্নেস তেলের আমদানি নিশ্চিত করার পরামর্শ
- 📌 শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের তাগিদ
- 📌 জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কৃষি, শিক্ষা, শক্তি ও পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব
- 📌 বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও নীতিগত পরিকল্পনার ঘাটতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত
📰 বিস্তারিত
দেশের জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক সহ-উপাচার্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশে গ্যাস-সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিদ্যুৎ খাতেও দীর্ঘদিনের জমানো সংকট রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কয়লা ও ফার্নেস তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে, কারণ টার্মিনাল সীমিত থাকায় এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। কম জরুরি কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করতে হবে। কলকারখানা, সেচ, কোল্ড স্টোরেজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে অপচয় রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে চারটি খাতকে রাখার প্রস্তাব করেন: কৃষি, শিক্ষা, শক্তি এবং পরিবহন ও লজিস্টিকস।
"জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে চারটি খাতকে রাখতে হবে—কৃষি, শিক্ষা, শক্তি এবং পরিবহন ও লজিস্টিকস। এ লক্ষ্য অর্জনের পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে; দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং নীতিগত পরিকল্পনার ঘাটতি।"
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সমস্যার সমাধান করতে আমলাতন্ত্র নির্ভরতা ত্যাগ করে সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে এবং পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল হাসিব চৌধুরী (বুয়েট সাবেক সহ-উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: গ্যাস সরবরাহের ৩৫-৪০ শতাংশ এলএনজি, বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা ৬ হাজার মেগাওয়াট, ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জিংয়ে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ৭০০ মেগাওয়াট, পুরো ব্যবস্থার দক্ষতা ১৫ শতাংশের কম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!