📌 ডিমের দাম বেড়ে গেছে ১০ শতাংশের বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ডজন ডিমের দাম বাড়েছে ১৫ টাকারও বেশি। ক্ষুদ্র খামারিরা লাভের বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সাধারণ ভোক্তারা খাদ্য ব্যয়ে চাপ পাচ্ছেন। ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের খামারিরা দাবি করছেন, করপোরেট প্রভাবের কারণে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না
ডিমের দামের অপ্রত্যাশিত বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তাদের খাদ্য ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। একই সাথে ক্ষুদ্র খামারিরা লাভের বঞ্চনা অনুভব করছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের শুরুতে ডিমের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম বাড়ে ১৫ টাকারও বেশি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, ১ অক্টোবর প্রতি ডজন ডিমের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৬৫ টাকা, যা খুচরা বাজারে ১৭৫ টাকাতেও বিক্রি হত। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে প্রতি ডজন ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিমের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি — প্রতি ডজনপ্রতি বাড়তি খরচ ১৫ টাকারও বেশি
- 📌 ক্ষুদ্র খামারিরা লাভের বঞ্চিত — প্রতি ডিমের উৎপাদন খরচ ১১ টাকা, বিক্রয়মূল্য ১৪ টাকা
- 📌 ভোক্তাদের খাদ্য ব্যয়ে চাপ — চার সদস্যের পরিবার মাসে ১২০ টাকা বেশি খরচ করছে ডিম কিনতে
- 📌 মধ্যস্বত্বভোগী ও করপোরেট প্রভাব — ক্ষুদ্র খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ
- 📌 খাদ্য দামের বেড়ে যাওয়া — পোলট্রি ফিডের দাম বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
ডিমের দামের বেড়ে যাওয়া সাধারণ ভোক্তাদের জন্য একটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ফুচকা বিক্রি করেন আমির হোসেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তিন সন্তানের জন্য প্রতিদিন তিনটি ডিম প্রয়োজন হলেও দাম বাড়ায় নিয়মিত তা কিনতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা বাবা-মা না খেলেও সন্তানদের খাওয়াতে হয়। কিন্তু এখন দাম বাড়ায় নিয়মিত ডিম খাওয়ানোর সুযোগ নেই। এক দিন বা দুই দিন পরপর খাওয়াতে হয়।’ মাসে ১৫ হাজার টাকার কিছু বেশি আয় করলেও পরিবারের খরচ মেটাতে টাকা থাকে না।
রিকশাচালক আল আমিনের পরিবারেও ডিমের দামের কারণে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছে। আগে সপ্তাহে অন্তত এক ডজন ডিম কিনতেন, এখন সপ্তাহে দুই হালির মতো ডিম কিনতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘আগে ডিমসহ অন্য জিনিসের দামও কম ছিল। কিন্তু এই এক মাস ধরে ডিম কেনা কমিয়ে দিয়েছি। দামের কারণে পরিবারে ডিম খাওয়াও কমে গেছে।’
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খামারি মো. ইকবাল প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ডিম উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হলেও সেই লাভের ভাগ পুরোপুরি আমরা পাই না। আমাদের প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ ১১ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়।’ ময়মনসিংহের ভালুকার খামারি মো. সুমন দাবি করেন, ছোট ও মাঝারি খামারিরা বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। বাচ্চা কিনতে গেলে সংকট দেখা দেয় এবং খাদ্যের দাম বেশি বা মান খারাপ হলেও বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তিনি বলেন, ‘খাদ্যের মান ভালো না হওয়ায় ডিম উৎপাদন কমছে।’
"বাজারে ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হলেও সেই লাভের ভাগ পুরোপুরি আমরা পাই না। আমাদের প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ ১১ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়।" — মো. ইকবাল, চট্টগ্রামের খামারি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী রামপুরা, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ময়মনসিংহের ভালুকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমির হোসেন, আল আমিন, মো. ইকবাল, মো. সুমন, দ্বীন ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ শতাংশ (দামের বেড়ে যাওয়া), ১৫ টাকা (বাড়তি খরচ), ১৬৫ টাকা (সর্বোচ্চ দাম), ১৭৫ টাকা (খুচরা দাম), ১৫৫-১৬২ টাকা (বর্তমান দাম), ১২০ টি (মাসে প্রয়োজনীয় ডিম), ১২০ টাকা (বাড়তি মাসিক খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!