📌 দেশে অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩ মাসে ৫ হাজার বেড়েছে। জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, করনীতি ও রাজনৈতিক আশ্রয় এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ
দেশে অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও ব্যাংক খাতে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭ জন। একই সময়ে এই ধরনের অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সংকটের বেলায় এই ধরনের অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ মাসে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭ জন — মার্চে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জন থেকে জুনে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২ জন
- 📌 কোটি টাকার অ্যাকাউন্টে জমা বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা — মার্চে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি থেকে জুনে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা
- 📌 মোট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৩ মাসে বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি — মার্চে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি থেকে জুনে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি
- 📌 মোট আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা — মার্চে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি থেকে জুনে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা
- 📌 বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, করনীতি ও রাজনৈতিক আশ্রয় এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জন। আর জুন শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২ জন। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭ জন। একই সময়ে এই অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এই বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীতে সম্পদ ও আয় বৈষম্যের অন্যতম দেশ হলো বাংলাদেশ। আমরা বহুবার পরামর্শ দিয়েছি যে, এই বৈষম্য দূর করতে হবে। কিন্তু, সেটা করা হয়নি। কর আর ভ্যাট ফাঁকি বাড়ার কারণেই দিন দিন কোটি টাকার গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে। দেশে পরোক্ষ কর আদায় বাড়লেও সেই তুলনায় প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়েনি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশ্রয়েও অনেকে দ্রুত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। তাদের তো সম্পদের হিসাব দিতে হয় না। এমনকি দুর্নীতিবাজ ও ঋণ খেলাপিদের কোনো জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হয় না। বরং, উলটো পুরস্কার দেওয়া হয়।’
ব্যাংক খাতের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। আর চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮ টি। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের স্থিতি ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।
খাতসংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।
"পৃথিবীতে সম্পদ ও আয় বৈষম্যের অন্যতম দেশ হলো বাংলাদেশ। আমরা বহুবার পরামর্শ দিয়েছি যে, এই বৈষম্য দূর করতে হবে। একটা প্রোগ্রেসিভ করনীতি প্রণয়ন করতে। কিন্তু, সেটা করা হয়নি। সামনে হবে বলেও মনে হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. জাহিদ হোসেন (বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার ৭৭ জন (কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধি), ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা (জমা বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!